মো. ইকবাল হায়দারের শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘প্রকৃতির নীরব সুর’

মো. ইকবাল হায়দার

চিত্রশিল্পী ও ডিজাইনার। জন্ম ১৯৭৮ সালের ৪ অক্টোবর, ঢাকায় । পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষোদ থেকে ছাপচিত্রে স্নাতকোত্তর। ছাত্রাবস্থায় ২০০০ সাল থেকে চারুকলা অনুষদে অনুশীলন কালে বহু দেশি ও আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপে অংশগ্রহন করেন। ওয়ার্কশপ গুলোর মধ্যে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা (Alliance Française de Dhaka) ও ফ্রেন্স এম্বাসির উদ্যোগে শিল্পী “জ্যো পিয়ারে ট্যাংগুয়ার্ট” এর ওয়ার্কশপ, শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার এর সাথে ওয়ার্কশপ, পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (EPDC) এর উদ্যোগে ওয়ার্কশপ এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট থেকে শিল্প নির্দেশনা ও শর্ট ফিল্ম ফোরামের ওয়ার্কশপ উল্লেখযোগ্য।

প্রদর্শনীঃ

২০০৫ এ ইয়াং প্রিন্ট মকার প্রদর্শনী, ২০১৩ এশিয়ান আর্ট ভিয়েনাল, ২০১৫ তে এশিয়ান আর্ট ভিয়েনাল এ পর পর তিন বার ও ২০১৭ জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে থেকে শুরু করে অসংখ্য প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। দেশে ও বিদেশে ৫ টি যৌথ প্রদর্শনী অংশ গ্রহণ করেন। তার শিল্পকর্ম বাংলাদেশর বাইরে ক্রিয়েটিভ ডেস্টিনি কনটেম্পোরারি আর্ট অফ গোল্ডেন বেঙ্গল এর “Imago Mundi Collection is today an encyclopedic catalog of the global contemporary artistic production” এর সংগ্রহে রয়েছে।

শিল্পীর বর্তমান আবাস ও স্টুডিও ঢাকায়। নিজস্ব ক্রিয়েটিভ এজেন্সি অরফেক এ সময় দিচ্ছেন নিয়মিত ।


প্রকৃতির নীরব সুর

“Nymph / নিম্ফ” শিল্পী মো. ইকবাল হায়দারের প্রাথমিক ভিজ্যুয়াল অন্বেষণ, স্পষ্টভাবে এক পরাবাস্তব ও সুররিয়াল কাঠামোর ভেতর দিয়ে গঠিত হয়েছিল, যেখানে প্রকৃতি কেবল দৃশ্যমান বাস্তবতার অনুকরণ নয়—বরং একটি প্রতীকী ও মনস্তাত্ত্বিক নির্মাণ হিসেবে উপস্থিত ছিল। এই পর্যায়ে শিল্পীর কাজ বাস্তবতার সীমানা ভেঙে এক স্বপ্ন-সদৃশ, নীরব কিন্তু ঘন চেতনামূলক স্পেস তৈরি করে, যেখানে বস্তুর উপস্থিতির চেয়ে তার অন্তর্লীন অর্থ ও অনুভব অধিক প্রাধান্য পায়।

পরবর্তী পর্যায়ে ইকবালের মাধ্যমগত অভিজ্ঞতা—বিশেষত মিশ্র মাধ্যম ও ছাপচিত্র—শিল্পী কে ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনে বস্তুগততার দিকে। এখানে আপনার ভিজ্যুয়াল ভাষা আর কেবল কল্পনার বিস্তারে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা টেক্সচার, ম্যাটেরিয়ালিটি এবং আলো-ছায়ার মৌলিক আচরণের দিকে মনোযোগী হয়ে ওঠে। এই পরিবর্তন এক ধরনের নীরব রূপান্তর নির্দেশ করে—যেখানে ইমেজের অভ্যন্তরীণ নাটকীয়তা কমে এসে পর্যবেক্ষণমূলক সংযম বৃদ্ধি পায়।

এই ধারাবাহিকতায় “প্রকৃতির নীরব সুর” কোনো স্থির ইমেজ-অবজেক্ট নয়; বরং এটি একটি প্রসেস-ভিত্তিক উপলব্ধি। এখানে প্রকৃতি তার প্রতিনিধিত্বমূলক রূপ হারিয়ে আলো-ছায়ার প্রতিফলনের মাধ্যমে এক অব্যক্ত, কিন্তু তীব্রভাবে উপস্থিত নীরবতা নির্মাণ করে। এটি পাঠক বা দর্শককে কেবল দেখার নয়, বরং প্রকৃতির সেই নিগূঢ় সুরকে অনুভব করার আমন্ত্রণ জানায়।

“reflex / প্রতিফলিত আলো” এই রূপান্তরেরই একটি পরিণত ধাপ হিসেবে পাঠ করা যেতে পারে। এখানে আলো আর কেবল দৃশ্য নির্মাণের উপাদান নয়; বরং এটি একটি সক্রিয় উপাদান, যা পৃষ্ঠতলে প্রতিফলিত হয়ে সময়, স্মৃতি এবং উপলব্ধির ভঙ্গুর কাঠামোকে উন্মোচন করে। প্রতিটি কাজ এক ধরনের অপটিক্যাল ঘটনাবলির মতো আচরণ করে—যেখানে আলো নিজেকে প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে নিজেই ভেঙে যায়, পুনর্গঠিত হয়, এবং নতুন অর্থ তৈরি করে। প্রদর্শনীটি শেষ হয়েছে শিল্পীর শিক্ষনবিশ কালের একটি সর্বজন নন্দিত শিল্পকর্ম ‘সাঁকো’র মাধ্যমে।

কবিতাপত্রের পাঠকদের জন্য আয়োজন করা হলো শিল্পী মো. ইকবাল হায়দার এর অনলাইন শিল্পকর্ম প্রদর্শনী প্রকৃতির নীরব সুর। আশা করি পাঠক এ আয়োজনে আমাদের সাথে থেকে শিল্পীর প্রচেষ্টাকে সার্থক করবেন।


শিল্পকর্ম প্রদর্শনী || প্রকৃতির নীরব সুর || মো. ইকবাল হায়দার

নিম্ফ || ০১

নিম্ফ || ০২

নিম্ফ || ০৩

নিম্ফ || ০৪

নিম্ফ || ০৫

প্রকৃতির নীরব সুর || ০১

প্রকৃতির নীরব সুর || ০২

প্রকৃতির নীরব সুর || ০৩

প্রকৃতির নীরব সুর || ০৪

প্রকৃতির নীরব সুর || ০৫

প্রকৃতির নীরব সুর || ০৬

প্রকৃতির নীরব সুর || ০৭

প্রকৃতির নীরব সুর || ০৮

প্রতিফলিত আলো || ০১

প্রতিফলিত আলো || ০২

প্রতিফলিত আলো || ০৩

প্রতিফলিত আলো || ০৪

প্রতিফলিত আলো || ০৫

প্রতিফলিত আলো || ০৬

সাঁকো

সর্বশেষ প্রকাশিত

নির্বাচিত

জনপ্রিয়

০ টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।