বাংলা কবিতা
গরমের দেশ
আলতো করে একটা পাখি বুকের ওপর চেপে
আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম
ওটা কোথায়
কোথায় উড়ে গেল ও
কেন গেল
মেঘেদের শাড়ি বদল
মেঘেরা শাড়ি শুকাতে দিয়েছে আকাশে।
ছাই ছাই বুকে তার
বুনো হুংকার।
ডাকে বৃষ্টি, জল, কোলাহল।
নীচের পৃথিবী জেগে উঠছে খুব।
পরিচয়
এই যে আমাকে যেমন দেখছো—
যার শীতকাল নেই, কুয়াশা দেখিনি কতকাল;
ছুঁয়েছি ভেজা আকাশ, আঙুলে রোদের ক্ষত,
বৃষ্টির ছলে ভাসিয়ে দিয়েছি সমস্ত বর্ষাকাল।
আলো হয়ে ওঠার প্রস্তুতি
অন্ধকারের বুকে জন্ম নিই
আলোর অনুবাদ খুঁজতে খুঁজতে ক্ষয় হয় অনন্ত ঋতু।
নিভে যাওয়া প্রদীপের ধোঁয়া
মনে হয় এই আমি, এই তুমি,
অদৃশ্য কাতরতা লিখে রাখে রাতের দেয়ালে।
অভ্যন্তরের লিফট
বন্ধ লিফট মানেই ঢোকার আগে থমকে যাওয়া।
একটা চাপা ঘর, যেখানে দেয়ালগুলো
শ্বাস নিতে ভুলে গেছে।
বোতামটা জ্বলে, তার নিচে শব্দ আছে,
আর সেই শব্দের নিচে আরেকটা শব্দ-
যা নিজেই নিজেকে বলে, “কাকে ধরে রাখো?
টেবিলের ওপর একা এক গ্লাস
তোমার দুঃখ নিয়ে তুমি বাঁচো
এই প্রার্থনা করি
একেকটা দাগ একেকটা রাস্তার প্রতি
অনুরাগ দেখায়
আর এটা সত্যি যে টেবিলের ওপর যখন কোন গ্লাস
অনিদ্রায়
অত:পর সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। নিঝুম হয়ে আসে শহর, আরেকটু পরে ঘরের সব আলো নিভে যায়, সব চুপচাপ, ঠিক যেভাবে ব্যস্ত উচ্চকিত দিনের পরে থিতিয়ে আসে সিড়ির গোড়ার সবজি বাজার, ধীরে ধীরে যেভাবে নিশ্চুপ হয়ে যায় টেরিবাজারের ভীষণ দুর্ভেদ্য বিশৃঙ্খল গলি রাত দশটার পরে।
আমাদের দুঃখগুলো
মানুষের দুঃখগুলো এসে চুপচাপ বসে – অতলে; হাসপাতালে।
এম্বুলেন্সের শব্দে তাদের নিরবতা ভাঙে।
মৃত্যুদূত এসে বসেন জানালায়, মলিনমুখ;
তাকান, – নিকট আত্মীয় পরিজনের দিকে,
মৃত্যুপথযাত্রীর বিছানায়।
এতটাও পিপাসার্ত রেখো না
আমাকে পিচ্ছিল করে ফেলে দিচ্ছো কোন সুড়ঙ্গে? কোন গুহায়? কোন অতল অজানায় আহত সাবমেরিন জাহাজ সাইসাই ডুবিয়ে দিচ্ছো? অক্সিজেন ফুরিয়ে আসছে, আয়ু গুম হয়ে যাচ্ছে, আমার জবরদস্ত তেষ্টা পাচ্ছে নিধি। ট্যাঙের হলুদ রঙ অনুরূপ তুমি গুলে যাও আমার ভেতর, পর্দার ফাঁক গলে তিলক আলোয় চিনি ও জলের মিশ্রণ যথাঃ গুলে যাও।









