পরিচয়
রি হোসাইন
এই যে আমাকে যেমন দেখছো—
যার শীতকাল নেই, কুয়াশা দেখিনি কতকাল;
ছুঁয়েছি ভেজা আকাশ, আঙুলে রোদের ক্ষত,
বৃষ্টির ছলে ভাসিয়ে দিয়েছি সমস্ত বর্ষাকাল।
বিচ্ছেদকাল থেকে ঝরে যাচ্ছে অসুস্থ আকাশ,
থমকে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রীষ্মকাল ভরে গেছে দুঃখে;
দেখো, সূর্যের চারপাশে বলিরেখা পড়ে গেছে—
স্থির চোখ পাথর হয়ে গেছে এক নামহীন শোকে।
আমার কোনো শীতকাল নেই,
স্পর্শের লোভে বিকিয়ে দিয়েছি আগেই।
ব্যবধান
তোমার আমার দূরত্বের মধ্যখানে
সাহারা মরুভূমি, পাহাড়ি বরফের বন—
বিস্তীর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র আমাদের স্পর্শের ভেতর।
আমাদের মুখোমুখি তাকিয়ে থাকার মাঝে
সমস্ত অতীতকাল, বৃষ্টির অবিরাম কথোপকথন;
অভিমানে জমে থাকে নির্জনতার কৃষ্ণগহ্বর।
এইবার হবে
শুনেছি তোমাকে
নিঃস্ব করে দিয়ে গেছে কতিপয় জাদুকর;
এখন তুমি কোথায় যাবে?
নির্লিপ্ত সময়ে
বিচ্ছিন্ন শীতকাল জমেছে তোমার আত্মার ভেতর;
আর কত পালিয়ে বেড়াবে?
হাত ধরি, এসো—
মিছিলের মুখ হবো বিস্ফোরিত সংখ্যাতে দুর্বার;
মহাকালের স্পর্শ নেবে।
তোমাকে ছুঁয়ে যাব—
অবাধ্য অভিমানী বসন্তে আগুন-চুম্বনে তোলপাড়;
অনিবার্য স্লোগান ধরবে।
এইবার হবে—
তোমার সমস্ত কোষে কোষে, স্নায়ুর ভেতর
আমার একটা কিছু হবে।
আগলে রাখি দুঃখ
শিমুল ফুলের চোখের কোণে নামল কেমন জল,
জানুক সকল মৌমাছিরা, করুক কোলাহল।
কাঁটার ক্ষতে বিক্ষত বুক, উদাস বসন্ত—
গোপন মেঘে লুকিয়ে রাখি প্রেমের সমস্ত।
একলা আকাশ আঁকড়ে ধরি বিষণ্ণতার ছলে,
উজাড় করা স্বপ্নরা সব মিথ্যে কথা বলে।
আপন শহর রোদ বিকিয়ে পুড়ছে যে আঙ্গার,
মিশে যাচ্ছে ধুলার শরীর বৃদ্ধ ছায়ার ভেতর।
শেষ বেলাতে কালবোশেখী, ছন্নছাড়া ঝড়,
আমের ডালে উন্মাদনায় ভাঙল পাখির ঘর।
আগলে রাখি সব ইতিহাস, আগলে রাখি দুঃখ—
ভুলেই তো যাই বুকের ব্যথা, তাকিয়ে প্রিয় মুখ।
কষ্ট নদীর ছলে
কলকল তোর গহীন নদীর জল,
স্বপ্ন-পাখি ওড়ায় অধিক ছল।
কোথায় আমি দাঁড়াবো এই জলে?
ডুবে যাচ্ছি কষ্ট নদীর ছলে…
স্মৃতিরা সব মেঘ হয়ে রয় চোখে,
পাথর-চাপা একলা মনের দুঃখে।
বুকের জলে কয়লা-আগুন জ্বলে,
ডুবে যাচ্ছি কষ্ট নদীর ছলে…
বুকের ভেতর বাড়ছে অথৈ ঢেউ,
মানছে না এই বিষাদ-পারাপার;
তোর সীমানা পেরিয়ে যাচ্ছি চলে,
ডুবে যাচ্ছি কষ্ট নদীর ছলে…


০ টি মন্তব্য