সময়গুলো বেয়াড়া বড়
রতন ভৌমিক প্রণয়
মাংসাশী বলেই কি শুধু টান পড়ে যত্রতত্র?
জমি-জিরাত থাকলে কিছু গল্প হতো
লাঙ্গল নিয়ে যেতাম মাঠে, সময় নিয়ে বাড় ছিল না
রমণীয় বাগান, তুমি আমায় নিয়ে আর খেলো না
ওই দূরে যে নীল গ্রাম দেখা যায়- আমার বসত ঠিক সেখানেই
শূন্য আমার পি্রয়সংখ্যা, ধূসর মাটির ধুলোখেলা
আঙুল গুণে বলতে পারি দিগন্তে কার পদচ্ছায়া
সময়গুলো বেয়ারা বড়, আগুন নিয়ে আর খেলে না।
যে যায় একা, ফিরেও আসে তার ইশারা ভাল্লাগে না
বিশ্বাসে এক দারুণ জ্বালা, প্রহসনের বিলাপ শুধু
প্রতীক্ষারা বুড়িয়ে গেছে, আত্মদাহের যন্ত্রণাতে
এখন শুধুই ফাঁকা মাঠে লাঙ্গল চালায় ফতুর চাষী।
ক্ষয়
এক.
কখনো ভাবনি ক্ষয়ে শূন্য হবে বুক
জীবন চিতায় পড়া শূন্যতা বিবাগী
গানগুলো নিয়ে গেছে হিংসুকেরা বহুদিন আগে
এখন শুধুই খরা চোতের মহিমা সমুজ্জল।
দুই.
বন্ধুহীন কেউ নয়, তবু মনে হয়, চারপাশে শত্রুতা বেষ্টনী
শিশুর সকালগুলো আগোছালো, সবুজ স্বপ্ন যত খুন করে সময় শকুন
রাজপথে পড়ে থাকে ভীরু যুবকের দীর্ঘশ্বাস
আমাদের মনের গহীনে
বাসা বাঁধে মৃত্যুর দীর্ঘ অভিশাপ।
তিন.
কথা ছিল একদিন মোহনাও দিবে ঝাঁপ আকাশের নীলে
সেখানে মাতাল মন মহুয়ার বন-ভয়-লজ্জাহীন
অথবা সময় নিয়ে নানাহ হিসাব, নিন্দুকের আস্ফালন, মায়াবী সংসার
সব ছেড়ে একাকীত্ব- আগোছালো সমূহ বিবাদ
পড়ে থাকবে নিতান্তই ছেলে খেলা যেন।
চার.
এখন আমার দিন নির্বান্ধব পড়ে থাকে
রাতদিন ইনুনি বিনুনি,
রক্তসে্রাত বয়ে যায় মগজের প্রতি কোণে কোণে
ভালবাসা তাকেও না চিনি।
পাঁচ.
সহমরণের দিন আমাদের প্রাণপাখি
কুয়াশার ভেতর নিয়ে কবিতা লিখবে
পাহাড়ী তটের কাছে, এইসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যারা
আজ তারা শকুনের গ্রাসে একাকার
শ্মাশান চিতায় পুড়ে ছাই হয়- মানুষের দীর্ঘ হাহাকার।
লোকটা
মধ্যরাত গত হলে মাতাল বিবাগী এক ঘরে ফেরে
আগোছালো খরা নিয়ে মগজের কোণে
এইভাবে এক দুই তিন করে করে
কখন যে ছুঁয়ে যায় চল্লিশের ঘর
এসব কথা তার মনেও থাকে না। তারপর একদিন
মরণের নেশাগুলো অন্ধকারে গুম মেরে যায়
পড়ে থাকা রুদ্দুরের প্রতিটি প্রহরে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে পৃথিবীর দ্বিধাগ্রস্থ গান।
ফাটল
অকারণে বুকের গভীরে জমে যন্ত্রণার মেঘ
আকাশ উজাড় করে বৃষ্টি নামা বর্ষার আকুলতাগুলো
ধূম্রজাল ছড়ায় হৃদয়ে
অভিমান, তোকে আমি কখনোই নীলিমা দেব না।
যখন জেনেছি প্রেম ক্ষয়ে ক্ষয়ে ছাই হয়ে যায়
দুপুরের খেয়ালগুলো খরদাহে দগ্ধ হয়ে যাক
অসাধু নাটাল যারা তারা থাক বিবস্ত্র স্বাধীন
ফাটলের চিত্ররূপ, কড়িকাঠ গুনে কিই হবে
যখন প্রগতি নিয়ে তত্ত্ব কথা ভ্রুকুটির সীমানাকে ভাঙ্গে
শিল্প শুধু সভ্যতার ভগ্নদশা হয়ে, শ্মশান চিতায় পুড়ে ছাই হয়ে যাক।


০ টি মন্তব্য