স্মৃতিমুগ্ধ শুষ্কপত্রদিন
আফরোজ চঞ্চু
ভাষার বৈরিতায় বাক্যহারা সবাই। ওরা জানে এইখানে
সুদূরের ডাক। ওরা জানে এখানে প্রকৃতির বিশ্রাম নেই।
ওরা জানে ওরা এখন সবাই সবার। খুব আপন।
সকলের প্রতিটি রক্তবিন্দু এখন একে অপরকে স্পর্শ করছে।
অপূর্ব সময় এক সত্ত্বা। নিবিড় ঘন বনে হারাতে হারাতে
রোদ, ছায়া, হাসি, গল্প, সঙ্গীত, তারপর পথ যেন
আপনিই এসে ধরা দেয়। আপনিই আপনাকে প্রকাশ ক’রে
নিবিড় হয়ে যায় সকলের নিঃশ্বাসের গন্ধে।
ওখানে নিঃস্বর্গ। সবুজ পাতায় সূর্যের ভেংছি।
আমরা হারাতে হারাতে নাই হ’য়ে যাই। অপূর্ব অপলকে।
ভেতরে ভেতরে সবাই নির্বাক … … …
ভেতরে তরঙ্গ তোলে এক অপূর্ব আকাশের সবুজ।
আকাশ উড়তে থাকে গরুগম্ভীর, স্তম্ভিত, অনুকম্পিত হৃদয়।
স্বপ্নের মতো চকিতে শুকনো পাতার স্তুপ, বিশাল স্তুপ,
শুকনো পাতা ছুঁয়ে আছে আকাশ, ছুঁয়ে আছে বৃক্ষমূল,
ছুঁয়ে থাকলো আমাদের। উদ্ভ্রান্ত বৃক্ষশাখায় বিভ্রান্ত সবুজ,
ধূসর পাতারা বিভ্রান্ত করলো আমাদের। ওই দূরে,
নীলময় আকাশ … … … ছুঁয়েছে সবুজের প্রান্ত … … …
বিস্তৃত সবুজের ঘনত্বে আমরা একাকার-
আমাদর টেনে নিয়ে গেল শুকনো পাতার ভেতর
কোন এক মহৎ কল্পনা,
ধ্যানমগ্ন গুরুগম্ভীর অচৈতন্য বৃক্ষপত্রাবলী
হরন করেছে আমাদের।
আমরা অনতিদীর্ঘকাল পাতার কবরে শায়িত, মন্ত্রমুগ্ধ।
আমাদের বিদায় দিন- শুষ্কপত্রদিন।
আমাদের বিদায় বেলা- স্মৃতিমুগ্ধ।
আমাদের অন্তর সত্ত্বা এক হয়ে গেছে-
-একটি স্মৃতিচিহে্ক।
এ আমাদের পাথেয়।
অবারিত ব্যথা জাগরুক প্রাণে
কে ডাকে আমায় বিহ্বল নীতি নেত্রে
আমি কেন ভীত সন্ত্রিত ন্যায় প্রশ্নে-
পায়ে পড়ি তার করি ধ্যান
আমি জাগরিত তব স্পর্শে।
আমি মুখরিত করি জয়গান
ভালোবেসে যাই নির্বিঘ্নে।
আমি সঞ্চিত ব্যাথা জাগরিক প্রাণে
বিহ্বল সুখে উচ্ছল
কে ডাকে আমায়, ভেঙ্গে যায় ধ্যান
কে আমারে বাঁধে কষ্টে?
আমি জাগরিত আমি মুখরিত
আমি অবারিত তার স্পর্শে।
সাতই আষাঢ়
চৈত্র তোমায় কি দিয়েছে?
খরা!
তুমি কিন্তু আষাঢ় মাসের
বৃষ্টি দিয়ে গড়া।
জলের মতো যে পাত্রে নেই
ধারন করো সে রূপ
আমি জানি শান্ত শিষ্ট
তুমি মেঘের স্বরূপ।
আমি কেবল মেঘের কাছে
হাত পাতি আর কাঁদি
মাঘ প্রভাতে কষ্ট ভুলে
বৈশাখী হই যদি … … ।
উড়নচন্ডী ঝড়ের কাছে
তুমিও তখন হার মানতে
ঝড়ের অশ্রু আষাঢ় হয়ে
পৃথিবীর বুকে নামতে …।
ভিক্ষে
প্রপঞ্চময় কতো আশায় দুলেছি
অসংখ্য সুখ-গ্লানি স্মৃতিতে ভুলেছি
মরাঘাসে প্রজাপতি-
মুঠোয় তুলেছি।


০ টি মন্তব্য