বাংলা কবিতা
একগুচ্ছ কবিতার নামতা
পৃথিবীর হাঁটি হাঁটি পা হয়ে আমার চোখ যায়
সৌরমণ্ডলের মতো নির্বাক ঘূর্ণিতে পড়ে
প্রচণ্ড তৃষ্ণা বুকপকেটের কলমদানিতে রাখি-
আমার কফির কাপে
দুধ আর চিনির বিয়োগ শেষে
গুণ করতে বসি আচমকা হারিয়ে যাওয়া
তোমার চোখ, কপোলের টিপ আর পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া।
অনর্থক সময়ের গল্প
নতুন সম্ভারে সাজবে না বনকুল
পাখির সংসারে দেখবো না নতুন ছানাপোনা
নিঝুম শব্দ জেগে থাকে শরীর এবং বৃন্তে আলোর রেখা ছুটছে দিক বিদিক
চারপাশে এত অন্ধকার -নিশ্চুপ -ক্লান্তি
নগর পেছনে ফেলে ছুটে যাচ্ছে বন্দি হৃদয়ের শব্দ
জখমচিহ্ন
এ-জীবন থ্রিলার জগত, একান্তের ওয়েব সিরিজ—
যখন হয়েছে রাত্রি, এবং শোনো,
নিভৃত ইচ্ছে-রাখাল তুমি
রঞ্জিত চাঁদের সাথে গাইছ উড্ডয়নের গান—
গরমের দেশ
আলতো করে একটা পাখি বুকের ওপর চেপে
আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম
ওটা কোথায়
কোথায় উড়ে গেল ও
কেন গেল
মেঘেদের শাড়ি বদল
মেঘেরা শাড়ি শুকাতে দিয়েছে আকাশে।
ছাই ছাই বুকে তার
বুনো হুংকার।
ডাকে বৃষ্টি, জল, কোলাহল।
নীচের পৃথিবী জেগে উঠছে খুব।
পরিচয়
এই যে আমাকে যেমন দেখছো—
যার শীতকাল নেই, কুয়াশা দেখিনি কতকাল;
ছুঁয়েছি ভেজা আকাশ, আঙুলে রোদের ক্ষত,
বৃষ্টির ছলে ভাসিয়ে দিয়েছি সমস্ত বর্ষাকাল।
আলো হয়ে ওঠার প্রস্তুতি
অন্ধকারের বুকে জন্ম নিই
আলোর অনুবাদ খুঁজতে খুঁজতে ক্ষয় হয় অনন্ত ঋতু।
নিভে যাওয়া প্রদীপের ধোঁয়া
মনে হয় এই আমি, এই তুমি,
অদৃশ্য কাতরতা লিখে রাখে রাতের দেয়ালে।
অভ্যন্তরের লিফট
বন্ধ লিফট মানেই ঢোকার আগে থমকে যাওয়া।
একটা চাপা ঘর, যেখানে দেয়ালগুলো
শ্বাস নিতে ভুলে গেছে।
বোতামটা জ্বলে, তার নিচে শব্দ আছে,
আর সেই শব্দের নিচে আরেকটা শব্দ-
যা নিজেই নিজেকে বলে, “কাকে ধরে রাখো?
টেবিলের ওপর একা এক গ্লাস
তোমার দুঃখ নিয়ে তুমি বাঁচো
এই প্রার্থনা করি
একেকটা দাগ একেকটা রাস্তার প্রতি
অনুরাগ দেখায়
আর এটা সত্যি যে টেবিলের ওপর যখন কোন গ্লাস









