রক্ত জবা ও রক্ত গোলাপে

সৈয়দ আহমাদ তারেক

অজ্ঞাত সময় সমর্পিত হলে
পরিগ্রহ রহস্য পরিণতির অযাচিত,
ভাবনায় প্রতিভাসিত
এই মনে যিনি বান্ধবী,
তার সাথে সম্পর্কের বিণ্যাস বিপর্যস্ত।

রোগশয্যায় সেঁজুতি-সেবা, নৈতিক
পরিষেবা, তন্দ্রাচ্ছন্ন গতিশীলতা,
তৃণমূল থেকে উঠে শুভ্র সেবিকা-
কী করে অস্বীকৃতি জানিয়ে নামের পূর্বে
তৈরী হবে কৃতঘ্নতা?
না, সম্ভবের দেশে সব অন্তর্নিহিত শক্তিমত্ততায়
প্রকৃতি ও হন্তারক অসভ্যতায়,
বর্ধিত পটভূমি গোলাপী মুখে
নিন্দিত কণ্ঠস্বরে চার অধ্যায়।
অসময়ের পূর্বাভাস পেয়ে অনুমান যোগ্য
নৈবেদ্য অর্পণের বিশ্লেষণ হলো-

সৌম্যকান্তি সুদর্শনার রক্তবর্ণ চোখে
বাঙ্গালী মৃতু্যকে অতিক্রম করে
মনোরম ফুসফুসে লাল ভালোবাসা
রক্ত জবা ও রক্ত গোলাপে

দেখিনি কেন?

জিজ্ঞাসার মৌতাত মনে প্রবল বেঁধেছি
জানালা খুলে দিয়ে এঁকেছি
অচেনা নারীর খোঁপার ফুলের সুরভি।

মনে ও বনের যাচিত পথের রূপে
সুকন্যার জানামোনা দীর্ঘশ্বাসে
কী ভীষণ উড়ে যায় বুনো হাঁসে।

আন্তরিক রক্তের ঋণে যতিচিহ্ন
দেখালো ও খুলে গেলো
মৌতাত মনে ও বনে। কে এলো?

অথবা আগেই এসেছিল-
এতোক্ষণ দেখিনি কেন?

চাঁপাকলি

একবার অভ্র মৌনতার
ভেতর চন্দনের শাখা-প্রশাখায়
চোখে এনে, দেখাতে যদি
বিস্তৃত প্রেম শিলালিপি!

উৎকীর্ণ পাথরে ঝর্ণার ছবি
কিছু প্রাচীন সভ্যতার কাছে
ভঙ্গিমার যুগল শোভনতা,

সেই সময়
তোমার হতের দিকে আমার
আজন্ম তৃষ্ণায়
তাকিয়ে থাকা

তোমার কব্জীতে ওপরে উঠার সিঁড়ি
দেখতে জলজ সবুজ-
খুবই ইচ্ছে জাগে
ইচ্ছে করে বীমা করে রেখে
দিই এইসব ধরিত্রীর
নরোম চাঁপাকলি …

[পাখির পালকে অভিমান খসে পড়ে ঝরাপাতার দুঃখ বাড়ে]

মোমবাতির দু’দিকে আগুন
যদি দেখা দেয় ‘জতুগৃহে’, তবে
উত্তম-সুচিত্রা পর্দার অবগুণ্ঠনে ছেয়ে যাবে-
এই বিশ্বাসে, রক্ষিতার নিঃশ্বাসে
বিষবাষ্পে কেন অহেতুক মনে হয়?

আমি জানি। তুমি অথবা তোমাদের
নেপথ্যের কুশীলব এসবের ‘অযান্ত্রিক’ শব্দে;
কিছুই জানে না। তাই, সর্বশেষ চলচ্চিত্রে

ধ্বনি তরঙ্গে ঋত্বিকের প্রয়ান ‘যুক্তি তক্কো গপ্পে’

মনে হয়, নাকি …

মধ্যরাতের সীমা-পরিসীমার রাজস্ব ব্যয়
সংকোচনে, আত্মগত বিশ্বাসে গীতি প্রবণতা
সরাসরি সম্প্রচারিত আকাংখার মৃত্যু ভাবনায়।

লালফিতা আাঁকা-টাকা জালিয়তি চক্রের কাছে
জনচিত্তের আকর্ষণ… … …

আত্ম জৈবনিক ছায়াঘন রোদ-চশমায়
অগ্রসর কবিতার রঙ্গীন বিস্তৃতি
নিজস্ব সময়কে দিচ্ছে না নিষ্কৃতি।

দৌরাত্মের কাছে অকারণ নতুজানু ছবির
গ্রহণ প্রদান- সবই
ক্ষমতার অলৌকিকতা পলিমার নোটে,
ছেঁড়া কাগজের খুচরো পয়সার ঝনঝন শব্দে,
স্বাক্ষরিত অভিভাবক গভর্ণরের সুউচ্চ ব্যাংকে
আঙ্গুলের পাঁচ রকম ফাঁকিতে অর্থনীতির
স্পষ্টতার এগারো মাসের সকল-সুখ শ্রেষ্ঠ,

মনে হয়, নাকি বোধোদয়?

ক খ গ ঘ ঙ

ক.
কনিষ্ঠ পুত্রের নবপত্র কান্নার আনন্দে উপহাস থাকে না,
শ্বাসকষ্ট যদিও আত্মেজের শ্বাস-প্রশ্বাসে-তবু
আনন্দ বাৎসল্যে মৃত্যুর নিয়তি বিরুদ্ধে জানি
পবিত্রতার আবশ্যকতা জেনে দ্বৈরথে ভাসমান
হন্তারকের বিপাশা-বিশাখা অর্জুনের দীর্ঘকায় বাসনা থাকে।

খ.
পারমানবিক প্রণয়ে, প্রীতিহীন অপবাদের প্রত্যুত্তরে
সম্মুখ-শতাব্দীর যাত্রাপথে জিজ্ঞাস্য- অনুধ্যান
ব-দ্বীপের দেশে নীলবর্ণ ধূসর খেলায়, মৃত্তিকায়,
মেঠো বার্তায়, জন্ম-দরোজায় উন্মোচন লিট্‌মাস কাগজে।

গ.
অযাচিত ঋণে জীবন অভিশাপ অভিসম্পাত
জনারণ্যে অট্টরোলে অনন্ত পিপাসা আমাকে
মিনতি জানাতে দ্বিধা দ্বন্ধের আহ্বান পাইনি
অবরুদ্ধ অনিরুদ্ধ অনিকেত পূন্যস্নান পুত্রের স্নেহাদ্র
এখানে নয়- প্রত্যাবর্তনে দাসত্বের অভিপ্রায় থেকে দূরে…

ঘ.
শব্দ বন্ধ যদি অনাহুত নাকি দূরাগত শব্দ-ধ্বনি শুনি,
নীরু শামীম ইসলাম, আপনাকে অবজ্ঞা করেছি
সচিবালয়ের উর্দ্ধতন বরাদ্ধের রিলিফের শীত-পোষাক এর
আত্মসাৎ। এই দুঃখ আমার সকল সুখের মহিমা।

ঙ.
বন্দনা গীতির স্বস্থান কে দূরে দাঁড়িয়ে
প্রথমবারে গ্রহণ করে অশ্রু সজলতায়
যদি ছদ্মবেশে, পেয়ে যাই যদি স্বাধীনতা
আমারই কাংখিতার অপমানে- প্রত্যাবর্তনে
হিমেল কান্না তীর্থ কবরে, স্থানচ্যুত সমাধি প্রান্তরে
কে তুমি?

৫ বর্ষ. ৭ সংখ্যা. ফাল্গুন ১৪১০. ফেব্রুয়ারি ২০০৪

০ টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।