যিনি আঁধারে পুড়ছেন

আলতাফ শেহাব

অন্ধচোখ স্বপ্নের গন্ধ চুষে চুষে
ছুটে চলে পূর্ণ চন্দ্রতিথিতে।

গন্ধহীন কৃষ্ণ-গহ্বরে
চর্বির স্তরের মতো জমা হয়
স্বপ্ন-সমূদ্র।

চলতে চলতে দু’যুগ ধ’রে……..

তারপর অসীমে ডুবসাঁতার
অন্ধকারের প্রচন্ড তাপে
বাষ্পীভূত হ’লো সমস্ত স্বপ্ন-সঞ্চয়।

এখন অন্ধচোখ
এ বেলার শুদ্ধ ভাবনা মাড়িয়ে
লোনাবালির পোড়াগন্ধ চুষে চুষে
নিঃশেষ হ’তে থাকে………….।

পৃথিবী দুই রঙেরই

অর্ধেক নীল-
কলম বাতাস আর গর্ভবতী ফসলের
সঙ্গমের দৈর্ঘ মাপে;
অতঃপর প্রসব করে
অন্ন-সৃষ্টিকর্তার ক্ষুধার ইতিহাস
নীলের ঘণত্ব বাড়তে থাকে………
শ্রমিকের ঘাম জমা হয়
অদৃশ্য সব কৃষ্ণ-গহ্বরে।
পৃথিবীর শুকনো বুক চুষে চুষে
সদ্যজন্মা সূর্যরা
ডুব দেয় অসীমের পথে।

বন্ধ্যা কলম প্রসব ব্যথায় ছট্‌ফট্‌ করে

অর্ধেক লাল-
কলম পুঁজি এবং ঘামের
সঙ্গমের দৈর্ঘ্য  মাপে
অতঃপর প্রসব করে
ইতিহাসের রক্তাক্ত ক্ষতের আর্তনাদ…….
আমাদের ঘামের ওজন
আমাদের রক্তের ওজন
তোমাদের সভ্য পাল্লা
সয় কিনা দেখ?
তারপর হিসেব ক’রো…………

জলচোখ যা দেখেনা

নরকের দরোজা খোলা
প্রহরীরা সব মরে গ্যাছে

পূণ্যভূমির পথে পথে
ভয়ঙ্কর সব কীটের পায়চারী
তাদের জিভ হ’তে
মৌচাকের মধুর মতো
বুড়ো কাঠাঁল পাতার রঙ্‌ ঘামে;
ঘাম চেটে চেটে
সীসাযুক্ত বাতাসের আর্দ্রতা বাড়ে
অশ্লীল শব্দে ফিস্‌ ফিস্‌ ক’রে ওঠে-
কিন্ত্ত আমাদের বধির কান
অশালীন আবেদন বোঝে না;
আমাদের জলচোখ
জিভের ঘাম মেপে মেপে
বিজয়ী নির্ধারণ করে।

২ বর্ষ. ৪ সংখ্যা. আষাঢ় ১৪০৮. জুন ২০০১

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *