সেপ্টেম্বর ৭, ২০০২ | আলতাফ শেহাব, বাংলা কবিতা | ০ comments

এই কোকিলের স্বরলিপি

আলতাফ শেহাব

সব আয়োজন করে বন্ধ্যা হ’য়ে যাই
সময়ের আজন্ম-লাল গহীনে তাকাই
রথী-মহারথীরা অভিশাপ দিয়ে যান
বেলা শেষে সিঁড়িঁ ভাঙ্গে জলজোছনার ঘ্রাণ।

তারপর ছাঁই আগুনের সঙ্গমে উর্বর হয়
মহাকালের সমুদ্র মৃত্তিকা।

আমি বাধ্য হই
সময়ের আঙ্গুল ধ’রে ঝুলে যেতে;
বাঁ বুকে বীজ বুনেছিলেন প্রপিতামহ
বীজ আজ বৃক্ষের গর্ভে নতুন জন্মের আকুতি।

বিকেলের কোলে বসে খোলস বদলায় প্রজাপতিরা!

প্রজাপতি-বনে এই কোকিলের শবদেহ
চিল-শকুনের ঠোঁটের আগুনে।

অতঃপর রথী-মহারথীরা কানপেতে শুনুন
নতুন স্বরলিপির ঘোষণা-
আমার চিতার আগুন হবি তোরা,
আমি এ যুগের ক্যাথলিক।

নুন-আগুনের সংসার

দেবীর কোপালে
আঁধার রঙের প্রদীপ চন্দন,
চাঁদবনে আজ দেবতার প্রিয় গ্রহন।

ছায়া-বৃক্ষের গহীন নির্জনে
মহুয়াবনে ঝর্ণার জলসিঁথানে
অথবা রতিক্লান্ত দুপুরের নুন-আগুনে
আগুনে… …সিঁথানে… …বনে
শুধুই আঁধারের আগুন তার নষ্টমনে।

মেঘের আাঁচলে লাল ঢেলে
অনল জলের বর্ষায় ভেজেন।
আসক্তির শুকনো হাঁড়ে বিষ ঢেলে
স্বর্গীয় তৃপ্তিতে জিভ ভেজান।
তিনি পোড়া রক্তের আঁধারে গিয়ে
অপূর্ণ বীজ গর্ভে ধরেন।

আকাশের অসীমে … … ব্রাক্ষ্মণ
দেবতার হাঁটে গিয়ে পৈতা বেচেন,
দেবী ও আঁধারের সঙ্গমের দৈর্ঘ্য মাপেন।

ঘটনা এবং অনুভূতির সেঁকড় ধরে

১.
অসুস্থ সময়ে জীভ হ’তে খসে পড়ে
পৌরাণিক ভালোবাসা।
নদী এবং জলের স্বপ্ন-মৈথুনে
সমৃদ্ধ হয় রৌদ্র এবং ডানামেলা গাঙচিল।

প্রজাপতি ডানপিটেরা উড়ে উড়ে ঘুরে ফিরে
… ফিরে গিয়ে বসে গোলাপের লালে।
ধূসর আলোর শাড়ী পরিহিতা
স্বপ্ন-পণ্যে’র মোড়ক উন্মোচন করে।

অন্তঃসত্ত্বা গোলাপ প্রসবোন্মুখ চিরকাল … … …

২.
এ শতাব্দীর জিউসের ঈগল
রাতভর জেগে থাকেন তারাদের হাঁটবারে।
পূর্ণিমার আদিম আগুনে
পুড়ে ছাই হয় অভিলাষী সূর্যটা।

মধ্যরাতে এ গাঁয়ের একমাত্র হিজল গাছটায়
পে্রতের ঘুঙুরের বাদ্য শোনেন মাঝি শ্যামা।
রাত্রিশেষে মাঝিবউ হত্যার অভিযোগে
দন্ডিত হন মহামান্য জিউস।
বিপত্নীক মাঝি শ্যামা-
জিউসের রমণীদের আশির্বাদ লাভ করেন।

অনল জলের চিহ্নগুলো

এ শহরের সব কৃষ্ণচূড়া এবং রাধাচূড়া’র শরীর
যেন আজ গোধূলি’র বিষণ্ন কাফনের মতো।

জামরুলের রসালো শরীরে জমে আছে
চৈত্রের দুপুরের মতো অদ্ভূত বিরক্তির জলপাই।

প্রিয় সর্বনাশের ক্লান্ত বেদনার মতো মুখটির
স্মৃতির ঢেউয়ে অসহায় ডুবসাঁতার।

সর্পিল বক্রতায় হেঁটে চলে ধোপানীর ধাতব তাপযন্ত্র
ঈশ্বরীর দেহে কামনার খই ফোটে নবান্নের মটরশুটির মতো।

নৈঃশব্দের ডানা ভাঙ্গা ডাহুকির ধ্যান ভাঙ্গে
বেহুলার জৈব প্রেমের প্রতি অংক সময়।

পাতা ঝরায়- লজ্জ্বায় লাল ফাল্গুনের শিমুলবন
রঙধনুর প্রচলিত সাত রঙে জলজ ছন্দপতন
ঝি-জলে শুদ্ধ হয় জাতে ওঠা ক্ষ্যাপা বাউল
সুর তোলে বেনোজলে ভেসে যাওয়া নারী-পুরুষ-
আমাদের ইচ্ছার ঘুনপোকারা আর্তনাদ করে করে
ক্লান্ত হোক, ঘুমিয়ে পড়ুক- কালঘুমে।

৩ বর্ষ. ৬ সংখ্যা. ভাদ্র ১৪০৯. সেপ্টেম্বর ২০০২

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *