অল আউট গেম
সুকমল ঘোষ
বাপু হে, তোমার রঙ্গিনী প্রলাপে রঙ্গলাল আর নাচে না। মঞ্চ ফাঁকা; সেখানে কেত্তন করে সভ্যতার বেসুরো সারেগামাপা। পাটিল এক সময়ে, ভালোই ছক্কা হাঁকাতেন; সঙ্গে কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্ত। ছক্কার মান বেড়েছে। কেউ ইরান থেকে ইজরায়েলে যায়, রিভার্স সুইং করেন; হাতে হার্ডস না থাকলে সরাসরি ট্রাম্প করে তুলতে চান দান। স্বদেশ এ সম্পর্কে শ্রোতার আসনে বসে খেলা দ্যাখেন। কেউ একটা দেশলাই কাঠি জ্বালিয়ে খড়ের গাদায় আগুন দেয়। ওপর থেকে টুপ করে মিশাইল এসে চারপাশে ছায়ামেঘ সংগ্রহ করে যায়।
যুদ্ধ চলে, অথচ কথা বলে না; মানুষ মরে, অথচ নিরুদ্দেশের কোনো সংবাদ হেডলাইনে আসে না ।
বাপু হে, তোমার রঙ্গিনী বিলাপের চিড়েয় আর মন ভেজেনা।
যারা জানলার কাঁচে টুকি মেরে দ্যাখে, তাদের মৃত্যুও অনিবার্য; সেটা জানে। শহীদের কফিন আসে প্রত্যন্ত আলোহীন গ্রামে। সালাম দেয় গ্রামজনতা। চোখগুলো চিকচিক করে ওঠে ঘামে।
বাপু হে, তোমার রঙ্গিনী প্রলাপে রঙ্গলাল অল আউট দাঁত বার করে আর হাসেনা।
খেলা বন্ধ হয়, আবার শুরু। সমাপ্তির প্রতীক্ষায় কেউ কেউ বসে থাকে ।।
রেড অ্যালার্ট
কথা বলায় বারণ আছে। কারণ আছে
কারণ আছে, শেয়ালেরও ভয়; পাছে –
যদি, আমজনতা জেনে যায় –
কখন যায়, কখন আসে।
আঙুর গাছে তাকিয়ে থাকে।
বাইনোকুলার নিয়ে চোখে,লুকিয়ে দ্যাখে
কোথাও কি লাল পিঁপড়ে
এপাশ ওপাশ বসে আছে।
দুটো কাক বোবার মত পাশাপাশি
বসে বসে মুচকি হাসে।।
মিথ্যুক
সবার সামনে প্রকাশ্যে ঘোষণা করলে
মৃত্যুর সংবাদ পরিক্রমা ।
অথচ, জানোইনা – তখনো,
শিরা উপশিরার গভীরে লেখা হচ্ছে –
একটা মানুষ, যখন কথা বলেনা
শব্দও করেনা, নিস্তব্ধ, স্থির হয়ে
একাকী
সেইসব রূপকথার গল্প শোনে।
তখনো বেঁচে থাকে সে –
নিশ্চিত কোথাও।।
পেন্ডুলাম
আমি কিছু চাইনে; এমনকি
প্রিয়জনের জন্যেও ন্যূনতম কিছু না।
দেয়ালগুলো ভাপিয়ে উঠছে
রোদে পুড়ে যাচ্ছে নুড়ি পাথরের গা।
ডাইনিংয়ের জলের ট্যাপটার বড় তেষ্টা পেয়েছে
এঘর ওঘর হামাগুড়ি দিচ্ছে ফাঁকা
ভাতের হাঁড়ি, ক্যালেন্ডারের পাতা
ক্রমাগত দুলে যাচ্ছে একবার ডানে
একবার বাঁয়ে।
পারো তো, মানে যদি একান্তই কিছু পারো
ওদের জন্যে প্রয়োজনীয় টুকিটাকি যা কিছু
হোক, কিছু একটা এনো।
সবকিছু নিস্তব্ধ, নিথর নিশ্চল।
ওরা কি ঘুমিয়ে গ্যাছে!
ওরা কি আদৌ বেঁচে আছে!
ওরা কি আদৌ আছে!!
তৃতীয়
চিত্রকর, ক্যানভাসে ছবি আঁকছিল
একটা ছাগলের ছবি।
পাশেই দাঁড়িয়েছিল এক পাগল;
সে একটু রঙ চাইল, আর একটা তুলি।
পাগলটা, মাটির ওপর ছবি আঁকছিল
এক চিত্রকরের ছবি।
টিপ টিপ করে বৃষ্টি এলো, ঝোড়ো হাওয়া
ঝমঝম, কড়কড়াৎ, বিদ্যুতের চমক।
তারপর…. তারপর…..তারপর….
দূর ছাই!
তার জন্যে এতটা সময়!
তৃতীয় একটা ছবি।।


০ টি মন্তব্য