দৃষ্টিরও শোক জন্মায়

রওশন রুবী

কোনকিছুর দিকে বহুক্ষণ তাকিয়ে থেকো না,
দীর্ঘ দৃষ্টিরও একসময় শোক জন্মায়।
আমি বহু বছর ধরে
নিজেরই ভাঙা দরজায় কড়া নেড়ে ফিরছি।
কেউ সাড়া দেয় না,
শুধু ধুলো উড়ে এসে আমাকে ঢেকে রাখে।
আমি ভেবেছিলাম,
ভালোবাসা মানুষকে আশ্রয় দেয়।
পরে দেখলাম, আশ্রয় নয়,
সে কেবল হারিয়ে যাওয়ার শিল্প শেখায়।
এখন আমার সমস্ত ঋণ বন্ধক রাখা।
তবুও ক্ষত রয়ে গেছে,
সে-ই প্রতিদিন আমাকে আরও একটু মানুষ,
আরও একটু নিঃস্ব করে তোলে।

শেষ পর্যন্ত দেখি

এইসব শব্দ একদিন ফুরিয়ে যাবে,
যেমন নদী ফুরিয়ে ফেলে তার মানচিত্র।

আমি যতবার কবিতা লিখি, ততবার বুঝি,
মা, মাতৃভূমিকে উচ্চারণ করার মতো
কোনো বর্ণমালাই এখনো জন্মায়নি।

তারা বুঝি এমন এক ঋতু,
যার জন্য বৃক্ষেরা শতবর্ষ ধরে
পাতা ঝরার অনুশীলন করে।
আর আমি, নিজের ভাঙা করিডোরে
এক নির্বোধ পথিকের মতো
তাদের অনুপস্থিতির পদচিহ্ন কুড়িয়ে বেড়াই।

শেষ পর্যন্ত দেখি,
মানুষ কাউকে খুঁজতে খুঁজতে আসলে নিজেরই
হারিয়ে যাওয়ার ইতিহাস লিখে ফেলে।

০ টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।