কবির ভ্রমণ
মেহনাজ মুস্তারিন
তোমার ট্রেন আমার হৃদপিন্ড ভেদ করে
ছুটে যাচ্ছে
ইকো-ইসিজি পরীক্ষা করাতে আমিও পরের ট্রেনে আসছি..
যদি ওপেন – হার্ট সার্জারির প্রয়োজন হয়
আমি জানি ওখানে দেখবো অতৃপ্ত আত্মা
হৃদস্পন্দন বাড়াতে দু-একটা ঘাষফুলকে
কবিতা পড়ে শোনাচ্ছে।
জল তরঙ্গে যোগাযোগ
ইচ্ছে করছে সমুদ্রের সব জল বাষ্পীভূত
করে দিতে
ওরা আলাদা রাজ্যে চলে যাক সেই রাজ্যের একমাত্র অধিপতি আমি
ঘর -দোর -উঠোন সবই টেউ দিয়ে তৈরি হবে
আঁচলের ভাঙ্গা রোদ খেলা করবে ঢেউ এর তরঙ্গে–-
আলো জ্বলবে উদরে নামবে জ্যোৎস্না সে
এক তরঙ্গ!
ঢেউ এর সাথে স্নানোৎসব নতুন এক সমুদ্রের জন্ম দেবে
বিশাল তার হৃদয়….
তাইতো নোনা জলের নাম সূর্যঘড়ি
অনর্থক সময়ের গল্প
সময়ের পাতা কখনো খুলে দেখছো
আমি যতটা খুলেছি তার চেয়ে অনেক বেশি বন্ধ করেছি
আমি দেখেছি অনর্থক সময়ের গল্প পৃষ্ঠার পরে পৃষ্ঠা বয়ে বেড়াচ্ছি ভারে নূজ্য আমি
টুকরো টুকরো করে ভাসিয়ে না দিলে
নতুন পাতার আড়ালে ভাসবে না কোন কুঁড়ি, উঠবে না ধোঁয়াপোছা পূর্নিমা
নতুন সম্ভারে সাজবে না বনকুল
পাখির সংসারে দেখবো না নতুন ছানাপোনা
নিঝুম শব্দ জেগে থাকে শরীর এবং বৃন্তে আলোর রেখা ছুটছে দিক বিদিক
চারপাশে এত অন্ধকার -নিশ্চুপ -ক্লান্তি
নগর পেছনে ফেলে ছুটে যাচ্ছে বন্দি হৃদয়ের শব্দ
মাটি মা দুজনেই নারী
আমরা কিছু বিষয়ে কথা বলতে পারি
এই যেমন দুপুরের রোদ এসে পড়েছে কামরাঙ্গা গাছে
সেই ভিটামিন -ডি যুক্ত রোদ খেতে খেতে
গাছের তলায় গুঞ্জন উঠছে কৃষক রফিকের মেয়েটাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না
ও দিকে সরষে গাছ উজ্জ্বলতায় আলো ছড়াচ্ছে
গ্রামের বধূরা ভাবছে শহরের মেয়েদের মত রঙ-ঢং করে যদি ছবি তুলতে পারতাম
দিন যায় সরষে ফুল ঢলে পড়ে
গাছের রোগ প্রতিকার নিয়ে কৃষি অফিসার এসেছেন
এর আগেও কয়েকবার তাকে আসতে দেখা গেছে
যতবার এসেছেন কেন জানি সেই দিনই
একটা করে গ্রামের মেয়ে হারিয়ে গেছে
সূর্য ঢুবে রাত নামে আবার আরেকটা দিন
তারপর আরেকটা দিন —
আর ফেরে না
এ নিয়ে গ্রামের মানুষের নানা রকম
আলোচনা চলতে থাকে আর তা শুনতে শুনতে সূর্য ঢলে পড়ে গাঁয়ের ওপারে
কৃষি অফিসারকে বলতে শোনা গেছে আগামীবার সরিষার ফলন বাম্পার হবে
ধূ ধূ মাঠ মাইল মাইল হেঁটে যায় আলু জমির পাশ দিয়ে
মাটি আর মা দু’জনই নারী


০ টি মন্তব্য