ভেজা নক্ষত্র

আহমেদ বাসার

অতঃপর রক্ত-বৃষ্টি … …
সেলাই করা আকাশের ভাঁজে
                             জীবনের রৌদ্র-বিলাপ

বিপরীত তুষারপাতে
                      ভেজা নক্ষত্রের গায়ে
মৃর্ত্তিকার তামাটে চুম্বন
আঁশটে সকালের মেদ
কিংবা দুপুরের চর্বিত চর্বন শেষে
                   রাতের প্লেটে উঁই পোকার বিষ্ঠা

মেঘের ষ্টেশনে
                ধেয়ে আসছে উল্কার ট্রেন
অভিনব তারকার ঝড়ে
ভেসে যাওয়া বাতাসের
                           নন্দিত মুখোশ

মানুষের ঘড়িতে
                  আসন্ন বৃষ্টির অ্যালার্ম … …

তারার কাবাব

দ্বীপের কান্না শুনি দিগন্তের বুকের ভেতরে
বন্ধী পাখির আর্তনাদ ভাসে রক্তাক্ত সময়ের জঠরে
মাত্রাহীন শব্দ শিশুরা হেঁটে যায়
সদ্যস্নাত ভোরের আল ধরে অনন্তের দিকে
পৃথিবীর বদ্ধ কপাট নড়ে ওঠে
শিশিরের জলজ হাতুড়ী আঘাত হানে মাঠের হৃৎপিণ্ডে
কুমারী ফসলের মেয়ের নৃত্য দেখি
তার কাঁকনের ঝঙ্কার শুনি নিদ্রার তিমিরের ভিতর
হায়! দুখিনী নদী!
ঝর্ণার শৈল্পিক বিলাপ শিখে নাও
নেপথ্য ক্রন্দন-ধ্বনি আর প্রবেশ করে না
পৃথিবীর বধির কার্ণে
এখন চাই গলিত চাঁদের শরীর
সূর্যের সেঁকে সিদ্ধ করে আকাশের শিকে
গেঁথে রাখা তারার কাবাব।

নগরী-নারী

নগরী-নারীর খোলা চুলে
সভ্যতার লৌহ-ফুল দোলে
প্রস্তর যুগের পিঁচুটি লেগে থাকে চোখের কোনে
পাশ্চাত্যের রঙ করা পুতুল সেজে
বাংলার কলমিলতায় আহার খোঁজে

সমুদ্রের নোনাজল শুকিয়েছে কবেই
ঘর্মাক্ত দেহ হতে ঝরে পড়ে সময়ের কড়া আয়োডিন
বাতাসে শব্দের সিম্ফর্নি
মেশিনের দীর্ঘশ্বাসে জ্বলে ওঠে হাঁড়ের আগুন
কোথায় কবি?
কলম হাতে বসে আছে সময়ের পরাজিত ভাঁড়
রাতের আাঁধার পুঁজি করে কাম-রাঙা হয় নকল নারী
যান্ত্রিক-সংসার পাতে
সম্ভোগধন্য বহুনরাকাঙ্ক্ষী স্থুল আধুনিকা
নগরী-নারীর এলোচুলে নগ্ন-বানর ঝোলে
প্রাচ্যের কুনোব্যাঙ ডাকে মেধভুড়িতে বসে

৫ বর্ষ. ৭ সংখ্যা. ফাল্গুন ১৪১০. ফেব্রুয়ারি ২০০৪

০ টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।