দৃশ্যের অদৃশ্য
শামীম নওরোজ
নেপথ্যে আঁধার ছিলো। নেপথ্যে পালক…
অদূরে বসে আছে শিকারি একা। সে দিকে যায় না কেউ। অসহায় পাখি। ব্যাধ এসে এলোমেলো করে দেয় পাখির নিবাস।
লোকালয়ের পাখিবাস সরে যাচ্ছে দূরে। মৃত্যু এসে বসে আছে অন্ধকারে। চালের উপর।
নেপথ্যে কিছুই ছিলো না। নেপথ্যে আঁধার…
গাছ ও মানুষ
একডা মইরা যাওয়া গাছ রাস্তার ধারে খাড়ায়ে আছে। তার পাশেই শুইয়া আছে সূর্যির সতিন। সূর্যির ঘুম ভাঙে মানুষরও আগে। ততক্ষণে চানডা ঘুমাইয়া পড়ে।
আমি নিধুবনের দিকি যাইতিছি…
আমি মথুরার দিকি যাইতিছি…
মইরা যাওয়া গাছডা রাস্তার ধারে এখনো খাড়ায়ে আছে। সে দেহে মানুষ, মানুষর হিংসা।
বাতাস কিছুই কয় না। শুকনা ডালপালা চুপচাপ কাইপ্যা কাইপ্যা ওঠে।
মেঘবৃষ্টিঝড়
ঝড় আসছে। মেঘ করেছে। বৃষ্টি হলে খুশি হবো নিশ্চয়।
যারা ইদানিং সততার কথা বলে, তারাই মূলত, মিথ্যার শ্যাওলা। একথা সাগর জানে। একথা নদীও জানে।
মেঘ ডাকছে। বৃষ্টি পড়ার শব্দ হচ্ছে।
মেঘে মেঘে ঘষাঘষি। বাজ এসে পড়তে পারে যার-তার মাথায়। বাজ পড়ছে। পড়ুক। প্রতিহত করা শেখো।
জন্মান্তর
আবার নতুন কইরা জন্ম নিতিছি শিশুখাদ্যের ভিতর। একটা চামচ লাগছিলো। সারাবাড়ি খুঁইজাও কুনো চামচ মিললো না। জন্ম মাঝে মাঝে নিজের স্বভাবডাই হারাইয়া ফ্যালে।
গ্যারামের মানুষ, এক্কেবারে সহজ-সরল। তয়, এট্টুও বোকা না। ওরাই তো হামাগের মহারাজ।
ঘামের গন্ধ খুৃঁইজতে গিয়া পায়ছে জন্ম ও জন্মান্তর।
চামচ খুঁইজার দরকার নাই। এমনেই মিল্যা যায়বো জন্মান্তির চাষা। সহজ-সরল…
যাপন
এ অঞ্চলে কোনো শিকারি ছিলো না। পাখিরা আরামে খেতো। আরামে ঘুমাতো।
মানুষের যতো জ্বালা। নষ্ট আগুনে পুড়ছে সমূহ দিন-রাত্রি। লৌকিক যন্ত্রণায় বেঁচে থাকা মাত্র।
ডানা নেই। আধার নেই। মানুষেরা তাই পাখি হতে পারে না কখনো।
অনবদ্য যন্ত্রণায় ঘুমিয়ে পড়ছে সমূহ দিন-কাল।


০ টি মন্তব্য