দুপুর মিত্রের কবিতা

দুপুর মিত্র

এক.
শুনেছি,         নয়আনি বাড়ীর নাটমন্দিরে কোন এক মেয়ের কান্না শুনা যায় প্রতিদিন।                          তাই অনেক লোক নাট মন্দিরের সৌন্দর্য দূর থেকে দেখেই বিস্মিত হওয়ার                       চেষ্টা করে।

ভেবেছি,       কয়েকটা দিন সেই নাটমন্দিরের মেয়েটির মত কেঁদে কেঁদে কাটাব। যেন                         কান্না শুনার ভয়ে মানুষেরা দূর থেকে আমাকে দেখে বিস্মিহয়। যেন এইসব                     মেঘেদের বিণ্যাসে কোনও গোপন চিত্র শিল্পীর ইচ্ছামৃত্যুর ইশারা পায়। যেন                   গভীর রাতে গাড়ির শব্দের কাছে জেনে যায় কোন এক মৃত্যুর আশ্চর্য টানে                        সারারাত দৌড়ানোর কথা।

দুই.
মানুষের ঘুমমুখ দেখলে কেমন চুপ হয়ে যাই আমি। ঘুমন্ত মানুষেরা শিশুর মত পাপহীন জ্যোর্তিময় দেহে চোখ বুজে থাকে। মানুষের ঘুমমুখ আমার ভিতর ছড়িয়ে দেয় এক অদ্ভুত ভালবাসা। অনেক্ষণ তাকিয়ে থাকি তাই ঘুমমুখের দিকে। ঘুমমুখ আমাকে জাগিয়ে রাখে সারারাত। আমি মিশে থাকি সি্নগ্ধতার ভিতর। স্নিগ্ধকর অচেনা পথে দাঁড়িয়ে খুঁজি হারাবার পথ। জেনে যাই, যে মানুষ রমণীকে ফুল দেবার আগে কেঁদেছিল কিংবা কাউকে খুন করার আগে হেঁটেছিল সারা রাত। সারাক্ষণ অস্থির হয়ে থাকে যে মানুষ একটু স্বস্থির মত আশ্রয়ের জন্য অথবা মুখ গুজে রাখে শীতল জলে; সেইসব মানুষেরাও অজান্তে আশ্রয় চায় ঘুমের কাছে। ঘুম তাকে তার ভাবনার ভিতর, স্বপ্নের ভিতর, প্রাপ্তির ভিতর বাঁচিয়ে রাখে। আমি তাই গোপনে ঘুমপাড়ানি মেয়ে বসিয়ে রাখি মানুষের শিয়রের কাছে। আর তাকিয়ে দেখি পাপহীন জ্যোতির্ময় স্নিগ্ধ এক ঘুম মুখ।

৫ বর্ষ. ৭ সংখ্যা. ফাল্গুন ১৪১০. ফেব্রুয়ারি ২০০৪

০ টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।