উপসংহার এভাবেও ভাবা যায়

মেহনাজ মুস্তারিন

শুরুর দিনে সূর্য কি কেঁদেছিলো অথবা অল্প মুখ ফাঁক করে হেসেছিল

স্নিগ্ধ বাতাবি লেবুর সুঘ্রাণ অদ্ভুত ভাবে চেয়েছিল
জিহ্বায় তখন মধুরস কানার কানায় পূর্ণ

পৃথিবীর অদ্ভুত সব শব্দ আওয়াজ সে কি ভালোবাসার স্পন্দন নাকি মৃত্যুর মত হিম শীতল শব্দের কাছে পৌঁছে যাবার ইঙ্গিত

কোথায় আমি কোথায় তুমি কোথায় তোমার আমার সমাপ্তির ঝাপটানো ডানা
এই যে জন্ম এই যে শেষ সেকি জনশ্রুত নাকি ধুলো ঢাকা পথ

তবে এটা তো সত্য ঐ যে পাণ্ডিত্য -জ্ঞান -জ্ঞানহীন সকলি একদিন অফুরন্ত পৃষ্ঠার কাছে হারিয়ে যায় 

তবু আমরা সাগর হতে চাই পাখির ডানা গাছ অথবা সবুজ
আমরা আকাশ হবো বলে নীল রং হাতে সঞ্চারিত হই

তারপর শেষ করি ঠিক এইভাবে
উপসংহার – আমাদের চিরায়ত সত্য এবং সহজ দান

ভাগ্যলিপি তুসো জাদুঘর

যতবার  তোমায় খুঁজি দেখি জীবন এবং মিশ্র ভগ্নাংশের টুকরোয় তোমার নাম 

যেন আদরের বৃত্তে জোড়া লেগে তৈরি হচ্ছো একজন তুমি 
সেই তুমি একটা একটা করে তৈরি করো হৃদয়ের কাঠামো

অলংকার পরিয়ে শূন্য থেকে অসীমে দাও পৌঁছে 
খরায়, বর্ষায়, সমুদ্রে অথবা নদীতে অকুল কিনারার খোঁজে ভাসতে থাকো

কখনো ঘর- মাঠ -আকাশ -পাহাড় অথবা বন ঘুরে ঘুরে আবারও ফিরে আসো একই বৃন্তে
তবু দূরত্বের সীমানায় আজও টিকে আছো

যেভাবে আমি তুমি আমাদের কবিতার অংশে উত্তপ্ত সূর্য ঠান্ডা হতে দেখি
বাস্পীভূত জল হিমঘরে পৌঁছে সাজাতে থাকে একজোড়া নারী পুরুষের অবয়ব নিখুঁত রঙের জীবন্ত রূপ

তুসো জাদুঘরে সারল্য ও সরলতার প্রতীক রূপে ওদের পাওয়া যাবে

এক চিলতে বৃষ্টি

অন্ধকারের আমন্ত্রণে আঁধার থেকে ঘন আঁধারের দিকে হেঁটে যেতে যেতে নিঃসৃত অন্ধকারকেই খুঁজে পাচ্ছি আর ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছি আমি এবং ভাবনা 

দু’পায়ে আর কতদূর হেঁটে যাব আঁটি খুলে বের করবো আমি আমাকে 
ছদ্মবেশে টহল দিচ্ছেন যিনি তাঁর দীর্ঘশ্বাসে জন্ম হচ্ছে বিকলাঙ্গ শূন্যতা

চারপাশ লবণাক্ত উষ্ণতায় এগিয়ে চলছে জীবন 
পৃথিবীর হৃদয়ে যেটুকু স্নেহ এখন সম্বল তা দিয়ে কি জন্মের নির্মম নির্জনতা শেষ হবে

নাকি মুখে বলা গল্পটাও ম্লান হয়ে যাবে অন্ধকারে
ঝুপঝুপ করে নেমে আসবে লতানো মেঘ
চোখের কোনে এক চিলতে বৃষ্টি

দিন ফুরাবার গল্প

দিনের গল্প ফুরাতে ফুরাতে রাত আসে
নতুন গল্প নতুন ভাবনার ভিড়ে হারিয়ে যায়
দিনের প্রতিশ্রুতি

এভাবেই তোমাকে দেয়া কথাগুলো কথার কথা
অথবা একসময় খালি বাক্সে পড়ে থাকে
কিছু আবার অনন্ত শব্দে হারিয়ে যায়

ঐ যে হেমপ্রভ ঐ হৃদয় প্রভা ও আমার চোখের
খোলা মাঠ

দিন ফুরাবার আগে শুভ হোক লিখে বাঁকা পথ পেরিয়ে
সোজা পথ হেঁটে তোমাকে খুঁজবো
ততক্ষণে পাড়ার সাঁওতাল মেয়েরা ঝাঁকে ঝাঁকে
উদ্দেশ্য বিহীন পথে হেঁটে যাবে

ওরা ক্যাথলিক নাকি ব্যাপটিস্ট তা কি জানে
প্রতিশ্রুতির ঠিকানায়
আদিবাসী গোষ্ঠীর খোঁজে রূপালী হতে হতে ওরা মিলাবে আঁধারে

জীবনের দুটোপর্ব শেষে তৃতীয় পর্বের জন্য প্রতিশ্রুতি শব্দটা ঈশ্বরের একাগ্রতাকে প্রনাম জানাবে

জোনাকির মানদন্ড

হে আমার ঈশ্বর
শত্রু কবলিত এই পৃথিবীতে
রুক্ষতা থেকে বেরিয়ে খুলে ধরো হৃদয়ের হলুদ বিচালি

ওঁরা হেমন্তের মাঠ নিয়েছে শস্যক্ষেত -লাঙ্গল- কাস্তে
কৃষকের ক্লান্ত মুখ এক নক্ষত্র হাসি

হে আমার ঈশ্বর
সেই নষ্ট খেয়ালের বীজ থেকে বেরিয়ে রোপন করো মায়াবী ছাওনি
আশ্রয় দাও শান্ত স্নিগ্ধ সুষমায় ভরা তরুদল

ওরা পালা দলের যাত্রী
পথে ঘাটে ঘুরে ঘুরে তুলে আনুক দিন বদলের অঙ্কুর
সকলের অনুরণনে পৌঁছে দিক পৃথিবীর ঐশ্বর্য

নেমে এসো তুমি মর্ত্যে নেমে এসো ধ্বংস লিলার পটভূমিতে
সমস্ত গাণিতিক শাস্ত্র থেকে বেরিয়ে বিশুদ্ধ কর
সততা ও অসমতার মানদন্ড

পলক ফেল অন্ধকার গহ্বরে যেন জোনাকি আলো দিতে পারে

দীর্ঘ ক্লান্ত শ্বাসরুদ্ধ পৃথিবীতে

০ টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।