ইঁদুর দৌড়
মেহনাজ মুস্তারিন
এ দৃশ্যে কোথাও তাকে দেখবে না আর
কবিতার আকাশে উড়িয়েছিল যে ছাউনি
এখন সেখানে রাত দিন রঙিন বেড়াল
ইঁদুরের খোঁজে উতপাত
সারাবেলা ওদের আনাগোনায়
সূর্যকে আড়াল রাখা গেল না আর
একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে আসল রঙ
সৌন্দর্যে গোলপাকানো সাপের ছোবল দেখবে
উঠোন থেকে খড়ের পালা নিয়ে ছুটছে মা ইঁদুর
আর আমি আমার জুতোজোড়া সামলে নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে আছি
কারণ
একটা আবছায়া রাত জেগে আছে একা একা
হাল ছেড়ে দেয়া গাছের ডালে ঝুলছে
হেঁয়ালি রোদ
হে প্রেমিক, টিকে থাকতে সাহস লাগে শক্তি লাগে,
সেই সাহস সকলের থাকে না
মেঘ:মেঘের ভেতরে মন, মন:মনের ভেতরে মরুভূমি
সকলের বোধগম্য হয় না তাতে
অন্য পৃথিবী
আজ সকাল কাকের সাথে বৃষ্টি ঝরা শব্দ শুনি- সকালে,
আলো যেভাবে অন্ধকারের শরীরে মিশে যায়
সময় কাছে আসে চুপটি করে বসে জানতে চায়
তোমার কাছে ভালোবাসার মানে,
আমরা দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে হাসি
একটি শরীর যদি হতাম পরস্পরকে ভালোবেসে
এসব পুরনো কথা, এখন সবকিছুর ক্ষয়
বিষাক্ত বিষে কুঁকড়ে যাওয়া গাছের উজ্জ্বলতা
পাখির সাথে গাছ ঠোঁটের স্পর্শে মহাপ্লাবন
ঘটে কি আর
এখন বুঝে নিতে হবে অন্য রকম ব্যবহারের
এক সময় অন্য পৃথিবী


সূর্য হারিয়ে যায় না প্রকৃতার্থে, হয়তো কবিতায় মেটাফর হয়ে আসে এভাবে। ইঁদুর নির্দিষ্ট খাঁচায় রাখা, অতএব বিড়ালের ভূমিকা নেই সেখানে। ‘জুতোজোড়া সামলে নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে আছি’ অসামান্য একটি লাইন, জাস্ট হ্যালুসিনেশন। দ্বিতীয় কবিতাটিও প্রথম কবিতার বার্ধিত বারান্দা। সেটাও কল্পনায় কবিতাই মাত্র। ‘অন্য পৃথিবী’ এটিও কবিতা হ্যালুসিনেশন থেকেই নির্মাণ।
—