ষষ্ঠ চিঠি
কাম উস্-সে আ পড়া হ্যায় জিস-কা জাহান-মে,
লেবে্ না নাম কোয়ী সিতম্গর ক্যাহেঁ ব্গ্যায়র।
সম্পর্ক এসে পড়লো তার সাথেই যাকে পৃথিবীতে,
নির্দয় বলা ছাড়া কেউ নামই নেয় না।
বা লা য়ে জা নে গা লি ব
এই অত্যাচার তো বোধহয় হালাকু খানের মাথাতেও আসেনি যে ফরিয়াদীর গলায় পাহারা বসিয়ে তার পর পছন্দসই লয় এ আর্ত্তনাদ করতে বাধ্য করা হবে –
আপনার অর্পূব নির্দয়তা আর স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ যদি কাব্যের ভাষায় না বলি তো আর কোন মুখপোড়া ভাষায় বলবো – গেরস্থ সওদাগরীর ভাষাতো আমার মুখে আসে না, না আমি তাতে নিজের ভাবনা ঠিকমতো জাহির করতে পারি -মনপসন্দের এই খুঁতই আমার শেষ করলো-
শত তুচ্ছ ব্যাস্ততায় ঠিক সময়ে জবাব লিখতে পারেননি – সে ক্ষমা চাওয়াতেও দোমনা ভাব, মানে নির্দয়তার খতিয়ান কারনসহ এমন করে বলা যে সে নিজেই আরেক অত্যাচার হয়ে যায়- নির্দয়তার জগতে আপনিই তো এক লাজওয়াব –
জোর সে বায আয়ে পর বায আয়ে ক্যায়া,
ক্যাহতে হ্যায় হাম্ তুমকো মুঁ দিখলায়ে ক্যায়া।
অত্যাচার থেকে নিজেকে সামলে নিয়েছো নাকি,
বলছো, আমি তোমায় মুখ দেখিয়েছি নাকি ?
গেল চিঠিতে লিখে ফেলেছিলাম জগৎ আর জগৎবাসীর বাড়াবাড়িতে বিরক্ত হয়ে আছি আর সম্পর্কহীনতায় বড় কষ্টে দিন কাটছে – আমার এই বয়ান আপনার হাস্যপরিহাসের উপকরণ হয়ে গেল – আর আপনি তাতে উঁচু আওয়াজে ঠাট্টা করলেন – যে কিনারায় বসে ঢেউয়ের অলস ছন্দ দেখছে আর ডুবন্ত সূর্যের অপার্থিব আলোয় বুঁদ হয়ে আছে, কোন ডুবন্ত অসহায় পথিকের আবেগের সাথে তার কী সম্পর্ক ?
যে অসহায়ত্ব আর একাকীতে্বর মাঝে পা রগড়ে-রগড়ে দিন কাটিয়েছে একমাত্র সেই হয়তো ঐ মনের আত্ম-অপমান আর সেই আহাজারির কিঞ্চিৎ আন্দাজ করতে পারে –
কাব্ কাবি্-এ সখত্ জাঁ নিহা-এ তনহায়ি না পুছ,
সুব্হ করনা শাম-কা, লানা হ্যায় জুঁ-এ শীর কা।
হৃদয়-বিপন্নকারী নিঃসঙ্গতা খনন করা কতটা কঠিন জানতে চেয়ো না,
সন্ধ্যাকে সকাল করা সেতো পাহাড় কেটে শির নদী বইয়ে দেয়া।
বিধি আমার চিরকাল বাম – সাহস আমি হারাইনি কোনদিন, এমনকি আজও অবহেলার অভিযোগ যদি করে থাকি তবে তাকে আপন দূরবস্থার প্রকাশ বলে মনে করি নি – আমার মনে হয় যা কিছু বলার মত ছিল, বলা হয়েছে-
তুম-সে বেজা হ্যায় মুঝে তাবাহি কা গিলাহ্ব
ইস-মে কুছ শাঈবা-এ খুবি-এ তকদীর ভি থা।
কেমন করে তোমাকে বলি তুমিই করেছো আমার সর্বনাশ,
এতে ভাগ্যের দক্ষ হাতের খেলাও কিছু ছিলো।
আপনার বেপরোয়া ভাবের কথাতো জানিয়েছি, সে অভ্যাস যদি ছাড়া না যায় তবে কমসে কম-
জান কর্ কিজিয়ে তাগাফুল কে মযা ভি কুছ আবে্
য়ে নিগাহ গলত্ আন্দায সিতম হ্যায় হামকো।
জেনেশুনেই অবহেলা করুন যেনো মজাও পাওয়া যায় কিছু।
এমন ভুল ভাবের দৃষ্টিপাত, সেতো আমার জন্যে এক অত্যাচার ।
সময় মত জবাব পাঠানোর প্রতিশ্রুতি গেল চিঠিতে খুব জোরের সঙ্গেই করা হয়েছিল – তারপর তার ফল কী হলো, আমার প্রাণের উপর প্রতীক্ষার অসহনীয় দণ্ড – মনে এসেছিল আপনাকে প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিই, যদি কোন ভালো ফল আসে – তারপর আবার চুপ হয়ে গেলুম যে-
তুম উনকে বা্দা কা যিক্র্ উন সে কিয়ূঁ করো গালিব,
য়ে ক্যায়া কে তুম কহো অওর বো্ ক্যাহে কে য়াদ নেহি।
তার প্রতিশ্রুতির কথা কেন তাকে বলো, গালিব,
এ কেমন কথা, তুমি বলবে তো সে বলে- মনে নেই ।
চমৎকার! আমার চিঠির উপর অর্থহীনতার দুর্নাম- কিন্তু সেই মুখকে তো কিছু বলা হয় না যে কখনো জলকে আগুন কখনো আগুনকে জল ভাবে- কখনো ফুলকে কাঁটা ভেবে ছুঁড়ে ফেলে আর কখনো কাঁটাকে ফুল ভেবে তা দিয়ে নিজেকে সাজায়- যদি কেউ বুঝতে চায় তো তাকে বোঝাই- মন দিয়ে যদি শুনতে চায় তো বলি, যদি কেউ দেখার কষ্টটুকু করতে চায় তো তাকে হৃদয় খুলে দেখাই- কেউ প্রশ্ন করে তবে তো উত্তর নেই- আচ্ছা, আমার চিঠি না হয় অর্থহীনই হলো কিন্তু অর্থ খোঁজার কষ্টটা করেছে কে?
হাম ভী মু’মে যুবান রাখতে হ্যায়,
কাশ পুছো কে মুদ্দোয়া ক্যায়া হ্যায় ।
আমার মুখেও তো একটা জিভ আছে,
যদি জানতে চাইতো, কথাটা কী?
প্রতিকারহীন এই জীবন আমার কাছে গর্বহীন এক অপরাধ- সে যত বাড়বে কষ্টও বাড়বে ততই- কত সহমর্মীতার সাথেই না আমাকে শেষ বিশ্রামাগারে যাওয়া থেকে আটকে রাখা হলো কী সুন্দর করে দেয়াল- দরোজাহীন ঘর বানানো থেকে আটকে রাখার চেষ্টা করা হলো -এই দয়ার তো একটাই কারণ- যেন আরো কিছুদিন একই নির্দয়তার কাজ চলে- প্রদীপকে সারা সন্ধ্যা তেজ হাওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখা হলো, যেন সে সকাল পর্যন্ত পুড়ে পুড়ে আলো দেয়- প্রাণ কন্ঠাগত রোগীকে শুধু মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগের জন্য বাঁচিয়ে রাখা হলো এর থেকে বড় নির্দয়তা কি ভাবনাতেও আসে?
ম্যায় নে চাহা থা কে আন্দোহে ব্ফা সে ছুঁটু,
বো্হ সিতমগর মেরে মরনে পে ভী রাজী না হুয়া।
আমিও চেয়েছিলাম প্রেম অঙ্গিকারের এই দুঃখকারাগার হতে মুক্তি,
সেই নির্দয় আমার মৃত্যুর কথাতেও সায় দিলো না।
-গালিব


০ টি মন্তব্য