প্রথম চিঠি
ঈশক্-সে তবিয়ৎ নে জিস্ত কা মজা পায়া,
দর্দ কি দবা পায়ি দর্দে লা-দবা পায়া।।
প্রেমেই জীবনের স্বাদ পেলো আমার মন;
ব্যথার ওষুধ পেলো, এমন ব্যথা পেলো যার ওষুধ নেই।
আ. স. আইয়ুব
জা নে গা লি ব
রূপ প্রকাশের কৃতজ্ঞতা আদায় না করলে কাফির- মুখশ্রী উন্মোচনের এহ্সান যদি না মানি তো গুনাহ্গার- দেখা মিললো- বিজলী নজরে এলো-তারপর? দৃষ্টি রূপ-বিভায় বেসামাল- কিন্তু এই দেখা, না দিলো শান্তি না স্থিরতা-
বিজলী ইক কুঁদ গঈ আঁখো-কে আগে তো ক্যায়া;
বাত করতে কেহ্ ম্যায় লবতশ্ নহ্-এ তক্রীর ভি থা।।
এক বিদু্যৎ চমকে গেলো চোখের সামনে, তাতে কী;
কথা বলতো, আমার ওষ্ঠাধর কথার জন্যও তৃষ্ণার্ত ছিল।।
আ. স. আইয়ুব
এক পলকের পর আর দেখা হ’লো না- জিভে কথা আসার আগেই সে মিলিয়ে গেলো- এই এক মুহূর্তের বাঁচা, সে আর কিসের বাঁচা! স্বর্গোদ্যানের দুয়ার খুললো, চোখের সামনে সূর্যের উজ্জ্বলতা এলো তো চোখ বন্ধ হ’য়ে গেলো- সেই দৃশ্যও এক লহমার বেশী কি দাঁড়িয়েছিলো? অবাক হ’য়ে ভাবছি হূদয়-মনোহর সেই শোভা প্রকাশিত হ’য়ে আমাকে বিহ্বল করা কেন জরুরী ভাবলো- সেই রূপের বজ্র যে নিজেই অস্থির, প্রতীক্ষার্ত দৃষ্টির সংহারী- এই প্রথার নিয়মে নিজেকে বাঁধলো কেন?
সে রূপ আর আত্মবিনাশী দৃশ্যের মুখোমুখি হবার আগে বলতাম-
মুঁহ্ নহ্ খোলনে পর হ্যায় বহ্ আলম কি দেখা হি নহীঁ,
জুলফ-সে বঢ় কর নকাব উস শোখ কে মুঁহ্ পর খুলা।।
মুখ না দেখালে কী ক’রে দেখি তার মুখের সৌন্দর্য,
বুঝি, কেশে ঢাকার চেয়েও সুন্দর তার ঘোমটা ঢাকা মুখ।।
সা.দা. গুপ্ত
পিপাসার্তের মত নদীর কিনারায় পৌঁছনোর বাসনা ছিল- এক আশা ছিল পাপীর মত পরিত্রাণ পাবার- জানতাম না প্রাণ থাকতে আশা পূরণ হবে কী না- বুঝতাম না আমার বিনতি গ্রাহ্য হবে কী না- সুন্দরের কৃপা আর আনন্দ উদ্দীপনার জোয়ারে ভাসলো- দৃষ্টিজ্যোতির বিভায় নিজেকে সার্থক ভাবলো- অন্ধকার বিরহের দিন সফল হ’লো- কিন্তু তার ধরন এমন যে-
নজারে নে ভি কাম কিয়া বাঁ-নকাব কা,
মস্তি-সে হর নিগাহ্ তেরে রুখ্ পর বিখার গঈ।।
তোমাকে দেখার দৃষ্টিও তো সেখানে নিজেই অবগুণ্ঠন,
মুগ্ধদৃষ্টির সব কলাপ তোমার মুখশ্রীতেই ছড়িয়ে পড়ে।।
সেই চিত্তহারী বিভার ইশারা হৃদয় একটু সামলে নিতে বিগত আসাদাল্লাহ খাঁ’র এই শের নিজের অজান্তেই ঠোঁটে এলো-
কিঁউ জ্বল গ্যয়া না তাব-এ রুখ-এ য়ার দেখ কর,
জ্বলতা হুঁ আপনে তাকত-এ দীদার দেখ কর।।
প্রিয়র মুখের দীপ্তি দেখে কেন জ্বলে মরলাম না,
দেখার এই শক্তি দেখেই জ্বলে মরছি এখন।।
আবার সেই শ্রীমান হৃদয়- সেই বুক মোচড়ানো আর্তনাদ- সেই বিমর্ষ দৃষ্টি; সেই প্রেমের দীর্ঘ অন্ধকার রাত, যে রাত পারের দুশমন আর ব্যর্থ বাসনার দাস- সুন্দরের ক্ষণিক কৃপায় প্রশান্তি এলো না- কুয়াশায় অনাদি কালের তৃষ্ণর্ত জিভের পিপাসা মিটলো না- বসন্ত মেঘের এক ছটা উজাড় বাগানকে সবুজ করতে পারলো না- সুর্যের প্রথম কিরণ আমার আঁধার ঘরকে ঝিলমিলাতে পারলো না- এক ফোঁটা শিশির ঝলসানো সবুজের তৃষ্ণা মেটাতে ব্যর্থ হল-
ভোর বাতাসের এক প্রাণস্পর্শী ঝাপটা ছিল, কাঙাল বুলবুলের পাশ ছুঁয়ে গেল- সফলতার স্বপ্নই ছিল; কোন হতভাগ্যের ভাবনায় উঁকি দিয়ে আবার নিরাশার অন্ধকারে হারিয়ে গেল-
এখন প্রার্থনার কারণ নেই- তাকে পাইনি বলতে তো পারি না, বেদনার অভিযোগ অর্থহীন… সে এক মুহুর্ত হলেও তো এসেছিল- চাওয়া শুধু আমার মন্দভাগ্যের কাছে যে আমার হৃদয় ভোলানো স্বপ্নকে এত কম সময়ে শেষ করে দিলো- আহ্, তার মুখের ছবি চোখ থেকে হৃদয়ে পৌঁছনোর আগেই হারিয়ে গেল-
হমারি সাদগী থি ইলতফাত নাজ পর মরনা,
সিতমগর তেরা আনা থা মগর তমহিদ জানে কা।।
তার মোহিনী গরিমার উৎসেই প্রাণ গেলো, হায় আমার সরলতা,
ওগো নির্দয় তুমি আসছিলে অথচ ধরন ছিলো যাওয়ার।।
তার এমন করে আসা, হায়! তার এমন করে যাওয়া- হায়! হায়!-
লেতে হি দিল জো আশিক দিল সোজ কা চলে,
ওতুম আগ লেনে আয়ে থে কেয়া আয়ে কেয়া চলে।।
সে অস্থির হৃদয়ের প্রেমিকটার হৃদয় নিয়েই যে চললে,
তুমিতো আগুন নিতে এসেছিলে, কী এলে কী গেলে?
হয়তো এর জন্যই আসা, যেন ধৈর্যের সাথে আমার কলহ জারী থাকে, শান্তির সাথে আমার আজীবন শত্রুতা হয়-
আনা তো খাফা আনা, যানা তো রুলা যানা,
আনা হ্যায় তো ক্যায়া আনা, যানা হ্যায় তো ক্যায়া যানা।।
আসো যখন ক্ষীপ্ত হ’য়ে, যাও কাঁদিয়ে,
আসা সে কেমন আসা, যাওয়া সে কেমন যাওয়া!
আমার বাকী জীবনে প্রশান্তির নাম নিশানা নিশ্চিহ্ন করতেই তাঁর এই দয়ার ছলনা?
ইলতিফাত য়ার থা ইক খোয়াবে আগাজে বফা,
সাচ্ হুয়া করতি হ্যায় ইন খোয়াবোঁ-কি তা’বীরে কহিঁ?
প্রিয়’র সেই পরিচিত ভাব যা ছিলো বিশ্বাসরক্ষার স্বপে্নর এক শুরুমাত্র,
এমন সব স্বপ্নের কথা কখনো সত্যি হয়?
এই চির প্রথার শেষ কোথায় তা তো কৃপাদৃষ্টিই জানে- যাক! আমি যা দেখেছি জেগেই দেখেছি- স্বপ্ন ছিল না যে ভুলে যাব, কল্পনা ছিলনা যে ভুলে থাকবো-
এই দেখা পাওয়ার(যদি তাকে দেখা বলা ঠিক হয়) পর দেহ মনে কেমন অশান্তি, তার কারণও খুঁজে পাই না।
আমি কি কিছু খুঁজছি- কিসের খোঁজে আছি আমি- এক প্রার্থী যে চাওয়ার মানেই বোঝেনা- এক মুসাফির যে তার গন্তব্যই জানে না-
ফির কুছ ইক দিল-কো বেকরারী হ্যায়,
সীনহ্ জুয়া-এ জখম্কারী হ্যায়।।
দিল হাওয়া-এ খিরাম নাজ-মে ফির,
মেহশরিস্তান-এ বেকরারী হ্যায়।।
আবার হৃদয় আমার অস্থির হ’য়ে উঠেছে,
খুঁজতে বেরিয়েছে তাকে যার আঘাতে সে আবারও বিক্ষত হবে।।
চঞ্চল চলার গর্বিত এই হাওয়ায় অন্ধ হৃদয় আমার,
প্রলয়কালের মতো ব্যকুলতা ছেয়ে আছে।।
আ. স. আইয়ুব
আপাদমস্তক বিবর্ণ, হৃদয় নিবু নিবু- বলি, মীর্জা এ তোর কী পাগলামী, কারুর চলার গতি যদি সর্বনাশের ঘুম ভাঙ্গায়, তাতে তোর কি? তোর ভাগ্য তো ঘুমিয়ে আছে- কারুর প্রাণদায়ী নিঃশ্বাস যদি মরা কাঠেও প্রাণের সাড়া জাগায় তোর অবস্থা সে একই-
ইবনে মরিয়ম হুয়া করে কোঈ,
মেরে দুখ্কি দাবা করে কোঈ।।
মরিয়ম পুত্র ঈসা হ’য়ে আসুক কেউ,
আমার এই দুঃখের প্রতিকার করুক কেউ।।
জীবন কাটছে আশ্চর্য ভাবে- কখনো নিরাশ হৃদয়কে আগুনের বসতবাড়ি বানায় কখনো প্রেম সেই জ্বালাকে আশার শেষ কিরণ ভেবে নেয়-
রওনক-এ হস্তি হ্যায় ঈশক-এ খানহ্ বিরানহ্ সাজ-সে
আনজুমন বেশমা হ্যায় গর বর্ক খিরমন-মেঁ নহীঁ।।
ঘর গড়ে আর নগর উজাড় করে যে-প্রেম তাতেই অস্তিতে্বর উজ্জ্বলতা;
মজলিস নিরালোক যদি ধানের গোলায় বজ্রপাত অগ্নিকান্ড না-ঘটায়।।
আ. স. আইয়ুব
-গালিব
- আ. স. আইয়ুব- আবু সায়ীদ আইয়ুব
- সা. দা. গুপ্ত- সাধনদাশ গুপ্ত


০ টি মন্তব্য