দ্বিতীয় চিঠি
সুন এ্যায় গারতগার-এ বফা সুন,
শিকস্তে শিশা-এ দিল কি সদা ক্যায়া।।
শোন যে বিশ্বাস ডোবাও, শুনে যাও
হৃদয়ের কাঁচ ভেঙে যাবার শব্দ কেমন।।
জা নে গা লি ব
অসুস্থ মানুষ সহৃদয় চিকিৎসককে বললো যে আমার বুক লুকোনো আগুনে নরক কুন্ড হ’য়ে আছে- প্রতিটি নাড়ির স্পন্দন উস্কে দেয়া আগুন, হৃদয় গনগনে কয়লা- জীবন প্রদীপ নিভে আসছে- জিভ অসাড়- হৃদয় বিক্ষত-
চিকিৎসক সব হাল শুনে নেহায়েত সরল ভাবে বললেন- আপনার কথা বোঝা গেল না- আপনি কি সিধে-সরল করে বলতে পারবেন?
সারা রাত আর্তের আহাজারী শুনে ভোরের বেলা কত ভোলামনে প্রশ্ন করা হচ্ছে ‘আপনার কি শরীর খারাপ?’ আপনি কিছুই জানেন না, আপনি কিছুই বোঝেন না-
তাজাহিল পেশগি সে মু’দ্দোয়া ক্যায়া ক্যায়া,
কঁহা তক এ্যায় সরাপা নাজ ক্যায়া ক্যায়া।।
না বুঝে তাকে কী দেখাবো, কোন বা কথা, কি অর্থ…
হে আদ্যপান্ত গর্বের মহিমা… কতদিন, কতদূর?
আমি কেন শুকনো খড়ের মত জ্বলছি- কী বলবো- যে বুঝতেই চায় না তাকে কী ক’রে বোঝাই- যে কিছুই না জানার ভান করে তাকে কী ক’রে জানাই- আমার বাসনা তার দুয়ারে গেল, আমার প্রার্থনা তার মহ্ফিলে গেল কিন্তু গান হ’য়ে, আমার আর্তনাদ সে শুনলো কিন্তু স্বপ্নের গল্প হ’য়ে অন্যের মুখের রঙ্ মেখে-
আমার কথা আপনি কেমন করে বুঝবেন, আমি তো নিজেই বার বার ভাবি কেন ঐ চিঠি লিখেছিলাম? অভিযোগ অনুযোগ কেন করলাম? কিন্তু এত কিছু ভুলে যাওয়ার পরও এতটা হুঁশ বাকি আছে যে সুন্দরের অজানার ছল মনে সয় না- এমন করে কৃপা দেখানো, সে আমার জন্য এক অত্যাচার আর তার চাইতেও খারাপ, বিশ্বাস দিয়ে বিশ্বাসহীনতা- আমি বিদ্যুৎকে মেঘ আর ছুরিকে তার খাপের বাইরে দেখতেই পছন্দ করি-
নিগাহে বে-হিজাবা চাহতা হুঁ,
তগাফুল হা-এ তমকীঁ আজমা ক্যায়া।।
তোমার নিঃসঙ্কোচ নির্বোধ দৃষ্টি দেখতে চাই,
ধৈর্যের পরীক্ষাতে উপেক্ষাই কী সব?
সা. দা. গুপ্ত
তীর চালাতে হয় তো নির্ভয় হ’য়ে- প্রশান্তি আর ধৈর্যের সঞ্চয়ে যদি বাজ পড়ে তো এক বারেই পড়ুক- আগুন আমার ঘরকে জ্বালাতে চায় তো দম্কে দম্কে নিভে না যাক- আমি কী বলবো, শিশির বিন্দু কি মধ্যগগনের সুর্যের সামনে আসার স্পর্ধা করে, আলোর সামনে কি আঁধার দাঁড়াতে পারে-
কিয়া কিসনে জিগারদারী-কা দাবা,
শাকিব খাতিরে আশিক ভলা ক্যায়া?
ধৈর্যসৈর্যের প্রতিষেধক প্রেম আবার কবে হ’লো?
তারা তো আর ওষুধ নয়, তবে সে পরীক্ষা কেন?
আপনার খামখেয়ালীর শেষ কোথায়- আমি কি বলেছি যে আমি চলতি ফিরতি জ্বলজ্যান্ত জাহান্নাম হ’য়ে গেছি-
জলবাজারে আতিশে দোজখ হমারা দিল সহি,
ফিতনা শোরে কয়ামত কিসকে আব ও গুল-মে হ্যায়।।
আমার হৃদয় না হয় নরকাগ্নির বিভায় আলোকিত,
এই প্রলয়ের হাঁকডাক কার ফুল আর হাওয়ায় পাচ্ছি বলো?
ভাবাও কঠিন যে আমার কথার অর্থ বোঝা যায় নি- এই কল্পনাই কঠিন যে আমার ভাবনা আপনাকে বিন্দুমাত্র ভাবিয়েছে- আমি আমার প্রাণ পোড়ানো আলোর ছটা দেখালাম আর সেই অপরাধে আমাকে চলতি ফিরতি জাহান্নাম বানিয়ে দেয়া হ’লো- আসলে আপনি না অস্থিরতায় কাতরতার রহস্য বোঝেন, না চাওয়ার সুর আপনার শ্রবণে ঝংকার তোলে- কারুর খড়ের কুটিরে আগুন লাগিয়ে দেখা যেন সম্পুর্ণ ছাই হয় আবার তার বাসিন্দাকে সরিয়ে আনা যেন তার গায়ে আঁচ লেগে কষ্ট না হয়- নিষ্পাপ সুন্দর ছাড়া এ আর কে করতে পারে?
সাদগী বো পুরকারী বে-খুদী বো হুঁশিয়ারী;
হুস্ন কো তগাফুল-মেঁ জুররাত আজমা পায়া।।
সরলতা আর কুটিল রূপ,আত্মভোলা আর হুশিয়ারী;
সুন্দর যখন অবহেলা করছে পরীক্ষা’র স্পর্ধা কোথায়।।
আপনি বলবেন- আপনার হাল কেমন- আমি বলবো, জানতে কেন চাইছেন? এই আশা নিরাশার দোলার শেষ কোথায়? জেনেই বা কী হবে-
বেনিয়াজী হদ্-সে গুজ্রি, বন্দহ্-পরবর, কব্ তলক,
হম্ কহেগেঁ হাল-এ দিল অওর আপ ফরমায়েগেঁ- ‘‘ক্যায়া?’’
আপনার উদাসীনতা সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে; হে মহীয়সী রানী, আর কতদিন,
আমি শোনাবো হৃদয়ের কথা, আর আপনি বলবেন, ‘‘কী?’’
আ. স. আইয়ুব
তবু ভালো-
গো ন সমঝু উসকি বাতেঁ গো ন পাউঁ উসকা ভেদ,
পর য়ে ক্যায়া কম হ্যায় কে মুঝ-সে বহ পরী প্যায়কর খুলা।।
তার কথা বুঝিনে, বুঝিনে তার রহস্য,
তবু একি কম সে পরীর সৌন্দযর্য আমার চোখের সামনে উন্মুক্ত।।
সা. দা. গুপ্ত
-গালিব
- আ. স. আইয়ুব- আবু সায়ীদ আইয়ুব
- সা. দা. গুপ্ত- সাধনদাশ গুপ্ত


০ টি মন্তব্য