দশম চিঠি
গলত না থা হামে খত-পে গুমাঁ তসল্লি-কা,
না মানে দীদাহ দিদার জো তো কিঁউ কর হো।
প্রশান্তির ভ্রম তোমার চিঠিতে, সে তো ভূল ছিলো না,
চোখ যদি তাকে দর্শন বলে না মানে, তো করার কি থাকে!
শা দি য়ে জা নে গা লি ব
আপনার অদৃশ্য হৃদয়সখ্যতা আর উপায় বাতলানোর শুক্রিয়া – কিন্তু এ কেমন সমব্যাথী, কেমন দুঃখনাশন চিকিৎসক আপনি যে প্রাণ ওষ্ঠাগত রোগীকে দেখতে যাওয়ার কষ্ট স্বীকার করলেন না – এ কেমন বাগানবিলাসের বাসনা যে বসন্ত বাগানেই পা রাখলো না -এ কেমন আতিথ্য যে অতিথিকে ডেকে এনে মুখ পর্যন্ত দেখানো হলো না – আপনার দয়া থেকে হৃদয় প্রশান্তির বার্তা বলে আর শ্রবণ মনোহর বাণীর রূপে তাদের ভাগ করে নিয়েছে-এখন অদৃষ্ট তার পূর্ণ ভাগের জন্য তৃষ্ণার্ত – বার বার মনে এসেছে –
দর্দ-এ দিল লিখখুঁ কব তক যাউঁ উনকো দিখলাউ,
উঙ্গলিয়া ফিগার আপনি খামা খুচকাঁ আপনা।
হৃদয়ের বেদনার কথা কতক্ষণ লিখবো, যাই তাকে দেখিয়ে আসি,
আমার ফাঁটা আঙ্গুল আর রক্তাক্ত চিঠির লেফাফা।
তারপর আবার এই ভেবে থেমে গেলাম যে এখনো সময় আসেনি – সেই বাস্তবতা তৈরী হয় নি-
চাক মত্ কর্ জেব বে আইয়াম-এ গুল,
কুছ উধার কা ভি ইশারা চাহিয়ে।
ফুল ও ফসলের কালে নিজের জামা বিদীর্ণ করো না ,
ওদিক থেকেও তো কিছু ইশারা চাই।
সপ্তাহ, মাস আর বছর চলে যাচ্ছে – আমাদের দেখা হওয়া সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে -না পিছু হটার ইচ্ছে না আগে বাড়ার ক্ষমতা – হয় আমার অন্ধকার কুঠুরিকে পূর্ণ চাঁদের আবাস বানাও, তোমাকে আতিথ্য দেবার সৌভাগ্য আমায় দাও – কোন কারণে এই আর্জি মন্জুর না হলে-
ম্যাহরবাঁ হোকে বুলালো মুঝে চাহো জিস ব্ক্ত,
ম্যায় গ্যায়া ব্ক্ত তো নেহি হুঁ কে ফির আভি না সাকুঁ।
করুণা হলে যখন খুশি আমায় ডেকে নিয়ো-
আমি তো নই অতীতকাল যার আছে ফেরার সন্দেহ।
– গালিব


০ টি মন্তব্য