সপ্তম চিঠি

ম্যায় ভী রুক্‌ রুক্‌ কে না মরতা জো যুবাঁ কে বদলে,
দশ্‌না এক তেযসা হোতা মেরে গম্‌ খোবারকে পাস।

আমিও একটু একটু করে মরতাম না যদি জিভের বদলে,
তীক্ষ্ন এক ছুরি থাকতো আমার সমব্যথির কাছে। 

দু শ ম নে  জা নে  গা লি ব 

মনের শান্তির জন্য যা চেয়ে পাঠিয়েছিলুম তা উশুল হয়ে ফিরে এসেছে, যদি হৃদয় ক্ষত মুখের প্রতিটি বিন্দু কথা বলতে শুরু করে তবুও আপনার এই দয়ার শুকরিয়া আদায় যথেষ্ট হবে  না – আপনার খুনসুটি  মজা পেয়ে এমন রূপ নেয় যে তাকে হৃদয় নিঙরানো, বুক বিদীর্ণ করা ছাড়া অন্য কোন শব্দে প্রকাশ করা যায় না- সমবেদনা প্রকাশ করা হয় নির্দয়তার পাহারাদারীতে, খোঁজখবর নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে চান তাতেও যেন খারাপ খবর পাওয়ার দুরভিসন্ধি-চিঠির যে উত্তর পাই তাতে কি আমার অস্থিরতার কোন ছাপ আপনাকেও বাধ্য করে, নাকি তা শুধু ঘৃণার অনুভূতি? জবাবের প্রতিটি পৃষ্ঠায় সেই একই  অর্থহীনতার সন্দেহ – সেই একই নিন্দা – শুরু থেকে শেষের মাঝে কত কথা – তারপর শেষে কোন কথা বুঝতে না পারার ছল-

বালা- এ জাঁ হ্যায় গালিব উস্‌কি হর্‌ বাত,
ইবারত্‌ কা্যায়া, ইশারত কা্যায়া, আদা ক্যায়া।

তার প্রতিটি কথাই যে প্রাণ  বিঘ্নকারী এক বিপদ গালিব,
কী ভাব,কী ইশারা,কী তার লাবণ্য। 

যেখানে প্রতিটি শব্দে ছলনার নতুন ধরণ আর প্রতিটি ধরণে অনন্য ভাব – যেখানে লিখনেঅলার মানে বুঝতে চাওয়া গভীর জলে হঠাৎ ঝাঁপ দিয়ে অনন্য  মুত্তে্কা বের করার চাইতেও কঠিন –

হ্যায় বস্‌-কেহ্‌ ইক উন্‌কে ইশারে মেঁ নিশাঁ অওর,
করতে হ্যায় মুহব্বত তো গুজারতা হ্যায় গুমাঁ অওর।

তার প্রতিটি ইশারাতেই থাকে ভিন্ন কিছুর চিহ্ক,
ভালোও যদি বাসে, আমি গন্ধ পাই অন্য কিছুর ।

অস্থিরতার কত নতুন উপকরণ যোগান দিয়ে যাচ্ছেন কি অপূর্ব নিপূণতায় – আপনার কোন  কথায় নিঃসন্দেহ হয়ে কাঁদবো অথবা হাসবো সেই দুঃসাহস কোথায় – কাউকে এতটা অস্থির করা যে তার চোখ জলে আর্দ্র হয়ে আসবে কিন্তু প্রথম অশ্রুবিন্দু গড়িয়ে পড়ার ঠিক আগেই হাসির কলরোলে বলা, বাহ আপনি এর মধ্যেই রেগে গেছেন বোধহয়- যদি কাঁদি তো বাধ্য করা অশ্রু পান করতে – যদি হাসি তবে চপলতার অভিযোগ – একদিকে ব্যথার তীব্রতা বাড়ানোর আয়োজন অপরদিকে কন্ঠরোধকারী সমবেদনা – ফুল গাঁথা হয় কাঁটার সুতোয়, সেই কাঁটা আবার ডোবানো হয় আতর, গোলাপে – আনন্দের মাঝে নিবিড় আনন্দ নেই, নিখাদ দুঃখ যে পাবো আপনার কাছ থেকে সেও দূরাশা- নিজেকে পুড়িয়ে অন্ধকার চেনা যায়, তাতে তো ভোর চেনা যায় না- এত সহস্রবার একই কথা বলে গেলাম তাতেও যদি কথা বোঝা না যায় তো আমি নাচার –

য়া রব না বো্‌হ সম্‌ঝে হ্যাঁয় না সামঝেঙ্গে মেরি বাত,
সে অওর দিল উনকো্‌ জো না দে মুঝকো যুবাঁ অওর ।

হে ঈশ্বর, তিনি বোঝেন নি, বুঝবেনও না আমার কথা;
দাও তাকে অন্য হৃদয় , যদি আমাকে অন্য ভাষা না দাও। 

আমার এই অবস্থার কোন প্রতিকার তো করলেন না – আর অস্থিরতার মাত্রা বাড়িয়ে লোক হাসিয়ে এখন আমার নামেই অভিযোগ – কাব্যে কাফির আর কাতিল ভালোবাসার সম্বোধন বলে মানা হয়, তাও পছন্দ হলোনা – 

বাত পর বাঁ যুবান কাটতি হ্যায়,
বো্‌ ক্যাহে অওর সুনা করে কোঈ।

কথা বললেই সেখানে জিভ কাটে,
সেই বলুক আর শুনুক অন্য কেউ। 

                                                                -গালিব

২ বর্ষ. ৫ সংখ্যা. আশ্বিন ১৪০৮. অক্টোবর ২০০১

০ টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।