নবম চিঠি

হাম ভি তসলিম কি খুঁ ডালেঙ্গে,
বে-নিয়াযি তেরি আদত হি সহি।

সব মেনে নিতে শিখবো আমিও,
উদাসীনতাই যদি তোমার অভ্যাস হয়তো হোক।

মু রা দে  জা নে  গা লি ব

আপনার সহ্যক্ষমতার সীমা -অভিযোগের নাম শুনলেই ভ্রু বাঁকা আর দৃষ্টি থেকে আগুন –

শিকবে কে নাম সে বে-মেহের খাফা হোতা হ্যায়,
য়ে ভি মত্‌ কহ কে যো কহিয়েঁ তো গিলা হোতা হ্যায়।

অভিযোগের নামেও সে নির্দয় ক্ষুদ্ধ হয়,
এ কথাও বলো না, যদি বলো তবে অনুযোগ হয়।

ভালো -ফরিয়াদ করবো না অভিযোগ প্রকাশ করবো না- কিন্তু চাপিয়ে রাখলে আমার হৃদয়ের আগুনের হল্‌কা আরো বাড়বে – আমার ব্যাথা চাপা পড়ে পড়ে আরো ভয়ানক হয়ে উঠবে –

রুখ্‌সত-এ নালা মুঝে দে কে মুবাদা যালিম,
তেরে চেহরে-সে হো যাহির গম-এ পিন্‌হা মেরা।

দীর্ঘশ্বাস ছাড়বার সুযোগটা অন্তত দাও হে নির্দয়,
তোমার মুখশ্রীতে প্রকাশ হোক আমার লুকানো দুঃখ ।

তার শানের প্রকাশ, হে ঈশ্বর! নিজের মর্জির বিরুদ্ধে না কিছু শোনা মনজুর হয় না বলার অনুমতি, কিন্তু গালিব অভিযোগকে কোষমুক্ত করার প্রার্থী এজন্য যে এতে আপনার নির্দয়তার মহিমাই বাড়ে – বোবাকে বিপর্যস্ত আর ভাষাহীনকে জুলুম করাতে আপনি কোন আনন্দ পাবেন?

দে মুঝকো শিকায়ত কি ইযাযত কে সিতম্‌গর,
কুছ তুঝকো মযা ভি মেরে আযার মে আবে।

অভিযোগ করার অনুমতি অন্তঃত দাও হে নির্দয়,
যেনো আমার ব্যাধিতে কিছু মজা অন্তঃত পাও।

অভিযোগ কোনঠাসা, বাসনার হরফ পর্যন্ত আপনার অপছন্দ, যেখানেই এর নাম পর্যন্ত শোনা গেল, গজব নেমে আসে, চোখ লাল হয়ে এলো, চেহারা থমথমে – দৃষ্টি থেকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ঝরে – কপালে কুঞ্চন – অনুযোগে ধমক – আন্দাজ বড় ভয়ানক -স্বরে আগুনের আঁচ -নিজের ছায়ার সাথেই লড়াই – কৃপাগ্রাহীদের উপরই রুদ্র বর্ষণ – আপনার কোপ তো জগৎ সংহারে উদ্যত –

ইস সাদ্‌গী পর কওন না মর্‌ যায়ে এ্যায় খুদা,
লড়তে হ্যায় অওর হাথ মে তলবা্‌র ভী নেহী।

এই সরলতায় কে না মরবে ঈশ্বর,
লড়ছে সে হাতে তলোয়ারও নেই।

এই যদি আপনার মেজাজের হাল – তার উপর দয়া আর কৃপার আশা! কৃপার আহবানেই এই, নিজে যেচে যদি যাই তো আর ভরসা কোথায় থাকে?

ম্যায় সাদাহ দিল আযার দিল-এ য়ার সে খুশ হুঁ ,
য়ানি সবক শওক মুকাররার না হুয়া থা।

আমি সরল হৃদয়ে তার দেয়া ব্যাধি নিয়েই খুশি,
তার মানে বাসনার পাঠ পাল্টে শেখা হয় নি আমার ।

দ্বিধাহীন দেখা পাওয়া আর স্বস্তির কথা তো ভাবতেই পারি না –

হামারে য্যাহন মে ইস ফিক্র কা হ্যায় নাম বিসাল,
কে গর্‌ ন হো তো কহাঁ জায়ে- হো তো কিয়ুঁকর হো।

আমার ভাবনায় এই দুশ্চিন্তার নামই হলো মিলন,
যদি না হয় তো কোথায় যাবো – হয় তো কেমন করে হবে!

                                                                               – গালিব

২ বর্ষ. ৫ সংখ্যা. আশ্বিন ১৪০৮. অক্টোবর ২০০১

০ টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।