দ্বাদশ চিঠি
লো বোহ ভী ক্যাহ র্যাহে হ্যায় য়ে বে-নঙ্গ ও নাম হ্যায়,
য়ে জানতা আগার লুটাতা না আপনি ঘর কো ম্যায়।
দেখো সেও ব’লছে আজ- এর তো নাম ঠিকানাই নেই,
যদি জানতাম এমন তবে এমনি করে তার জন্য নিজের ঘর লুটাতাম না।
জা নে গা লি ব
ঘরছাড়া আর ঠিকানাহীনের দারিদ্র্যের ক্ষতের উপর যে নুন ছেটানো হ’লো, বরাবরের মতই তার যথার্থ কৃতজ্ঞতা জানানোর অনুমতি চাই – ভাড়া ঘরকে ইমারত আর পাষাণ মূর্তিকে মানুষ ব’ললে সত্যের অপলাপ হয় – যে ভিত্তির পাথরগুলো ঠিকমত একের উপর আরেক সাজানো হয় নি সে আর কিসের ঘর? যার বুদ্ধি নেশার প্রাচুর্যে আকাশচারী না হয় সে কেমন মানুষ?
আপনার চিঠিতে ঘরের নাম দেখে আমি ঘরের কড়ি-বর্গা চৌকাঠে নজর করলুম, সব দিকে বিরান, ধ্বংসস্তুপই দেখলাম – দেয়ালে পোকামাকড়, ছাদে চিড় – সেই মরুপ্রান্তরে একা একা আওয়ারাপনার কালে এই শের লিখেছিলাম –
কোয়ী বিরানি সি বিরানি হ্যায়?
দশত্ কো দেখ কে ঘর য়াদ আয়া।
বিরান এই নির্জনতা দেখে ভীষণ এবং ভয়ঙ্কর
ঘরের যতো শূন্যতাটা মনে পড়ে।
আজকে ঘর দেখে মরুপ্রান্তরের কথা অসম্ভব ম’নে পড়লো – মন বললো আহা! যদি শহরে না থেকে জঙ্গলে আবাস গড়তুম – ঘরহীন জঙ্গলেই ঘরহীন হতাম – অসহায়ত্বের দুঃখ ভোগ করতুম – লোকালয়ে কোন্ শান্তির খোঁজ – এখন আর কী ব’লবো –
আব-এ দরিয়া ব্যাহে তো ব্যাহতর,
দরবেশ রবা্ র্যাহে তো ব্যাহতর।
নদীর জল ব’য়ে চললে তবেই ভালো,
দরবেশ পথ চলাতেই ভালো।
আলাদিনের চেরাগ পাওয়া গেলে কথা ছিলো – সাত রাজ্যের গুপ্তধন পেলে ঘর বানানোর হুকুম দেয়া যেত – শাদ্দাদের মত পৃথিবীতেই স্বর্গ বানানোর চেষ্টা করতাম – যখন সেই বাগান হ’তো তৈরী, তার ফোয়ারায় জলের ছটা চোখ ধাঁধাতো, সবুজ বাগানে ছড়িয়ে পড়া মনি মুক্তো আকাশের তারাদের লজ্জা দিত – হেমন্তের বিবর্ণতা পরাজয়ের দাসখত লিখে দিয়ে যেত – যখন প্রশান্তির গন্তব্যের ছাদে দঁড়িয়ে সাম্রাজ্যের বিচিত্র রঙের তামাশা দেখা যাবে – ভেবেছি তখনই একে আপনার পা রেখে জান্নাতে ফেরদৌস বানানোর নিমন্ত্রণ আপনাকে দেয়া যাবে -যাক, শোকর আর অভিযোগ আগেও করেছি, সামনেও হবে –
বাদা আনে কা বফা কিজিয়ে কেয়া আন্দাজ হ্যায়,
তুম-নে কিয়ুঁ সঁওপি হ্যায় মেরে ঘর কি দারবানি মুঝে।
আসার প্রতিজ্ঞা পূরণ করুন -এ কেমন ধরন,
তুমি কেন আমার হাতেই সঁপেছো আমার ঘরের দারোয়ানি!
যে প্রতিক্রিয়া দূর্যোগকে প্রাণসংহারি ব’লেছিলো – খুব ভুল বলেনি – যতক্ষণ আপনার দেখা পাওয়ার আশা থাকে, সে এক আজব অস্থিরতা – ব’সে থাকা কঠিন – চলে বেড়ানো মুশকিল – যেন কোন পথ না জানা মুসফির বিরান প্রান্তরের এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে অনেকগুলো পথ একসাথে – কখনো এই পথে পা রাখছে কখনো ওই পথে –
বর্ষায় জল পড়ে, শীতে বাইরে ভিতরে তফাৎ থাকে না তবু এই ঘর আরামের দেয়াল ক’রে দিচ্ছে – প্রাণ এই চার দেয়ালে হাঁসফাঁস ক’রছে – দৃষ্টি শ্রান্ত, মন নিস্তেজ
য়ে হাম জো হিজ্র মে দীবার ও দর-কো দেখতে হ্যায়,
কাভি সাবা কো কাভি নামাবর কো দেখতে হ্যায়।
এই যে তার বিরহের কালে দেয়াল দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি
কখনো ভোরের হাওয়া কখনো যেন পত্রবাহককে দেখতে পাই
কখনো প্রতীক্ষার বাসনার বিমর্ষতায় যদি গালিব এসে পৌঁছোয় তো ম’নে হয় দেখা করার সেই প্রতিজ্ঞা সে কী জেগে থাকতেই দেখা দেবে বলেছিল – না কি সেই প্রতিজ্ঞার সাথে চোখ খোলা থাকার কোন সম্র্পকে নেই –
তা ফির না ইন্তেজার মে নিঁদ আয়ে উম্র ভর,
আনে কা বা্দা কর গ্যায়ে আয়ে জো খোয়াব মে।
সে পর্যন্ত আর অপেক্ষার মাঝে ঘুমই এলো না,
আসার প্রতিজ্ঞা করে গেলো কিন্তু এলো কী-না স্বপ্নে!
কখনো আশা এসে কানে কানে বলে কোন কারণ যখন জান না, প্রতিজ্ঞায় সন্দেহ করা ঠিক না – বাসনা বলে, আমি নূহের আয়ূ, আইয়ুবের ধৈযর্য আনবো কোত্থেকে, রাখবোই বা কতক্ষণ –
সর বর হুয়ি না বা্দা সব্র আজমা সে উম্র,
ফুরসত কাহাঁ কে তেরি তামান্না করে কোয়ী।
ধৈর্য্য ধরে এই জীবনে সে প্রতিজ্ঞা পূরণ করলো কৈ?
অবসর কোথায় বলো তোমায় চাইবে কেউ।
সবাই আমার আশা আর ধৈর্যের জোর যাচাই করে দেখলো – তাদের কোলাহল হৃদয়কে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে-
জি ঢুন্ডতা হ্যায় ফির ব্হি ফুরসাত কি রাত দিন,
ব্যায়ঠে র্যাহে তসব্বুরে জানা কিয়ে হুয়ে।
প্রাণ খোঁজে আবার সেই সব অবকাশের দিন রাত,
বসে থাকা প্রিয়র ধ্যান নিয়ে।
কখনো বিমর্ষতায় বুদ্ধি বলে – ব্যাথা আর দাগই যখন তোমার নিয়তি তখন প্রশান্তির আশা কেন করো? এত অন্ধকারে সুখের স্বপ্ন কেন দেখ? সব যদি বুঝেই থাকো তো তাতে অভ্যস্ত হও, তবু –
মওত কি রাহ না দেখুঁ কে বিন্ আয়ে না র্যাহে,
তুম কো চাহুঁ ? কে না আও তো বুলায়ে না বনে।
মৃত্যুর পথ দেখবো না, সেতো আসবেই,
তোমায় চাই? যদি না আসো তবে যে ডাকতেও পারিনা
প্রতীক্ষার অস্থিরতায় ধৈর্যের এখতিয়ার হাত থেকে ছুটলো বাসনার আরশিনগর নিরাশার পাথর ছোঁড়ায় ভেঙে চুরমার – এ অবস্থাতেও বাসনা ভরসা দেয় তো বলি –
সঁভলনে দে মুঝে, এ্যায় নাউম্মিদী, কেয়া ক্যায়ামত হ্যায়,
কে দামন-এ খয়াল-এ য়ার ছুটা যায়ে হ্যায় মুঝ সে।
একটু সামলে নিতে দাও, হে নৈরাশ্য; এ কী প্রলয় কাণ্ড!
আমার হাতে বন্ধুর ধ্যানের অঞ্চল-প্রান্তটুকু ফস্কে যাচ্ছে।
হৃদয় আশা নিরাশার দোলায় চক্কর খাচ্ছিল – অন্ধকার আলোর সাথে দ্বন্দ্ব করছিলো-দিন আর রাত তাদের নিয়ম ভুলছিলো – এই অবস্থাতে সব যেন ঝাপসা, বিভ্রম মনে হলো -স্বপ্ন – এমন লাগলো যেন আমি এক নতুন ঘরে আছি, যে মরুর আচঁলের মতো বিবর্ণ, বঞ্চিতের হৃদয়ের মতো ফাঁকা -বিরানতা তার সরঞ্জাম, অন্ধকার তার সাথি – ছাদের ছায়া ছাড়া মেঝেতে আর কোন গালিচা নেই – মনে নেই কেউ বলেছিলো কি, না আমি আগে হতেই জানতাম, আজ সে আসবে এখানে এই বিরান বিবর্ণতায় তার সমাদরের উপযুক্ত সরঞ্জাম আনবো কোত্থেকে, কী আছে এখানে আমি ছাড়া ? এই ভাবনায় কখনো ঘরে কখনো বাইরে পায়চারী করি আর বলি –
হ্যায় খবর গর্ম উন-কে আনে কি,
আজ হি ঘর মেঁ বোরিয়া নাহ হুয়া।
জোর খবর-উনি আসবেন;
আজকেই ঘরে একটা মাদুরও নেই!
একটু পরে আপনি একদিক হতে উদিত হলেন – আমি বললুম –
বো্হ আঁয়ে ঘরমে হামারে, খুদাকি কুদরৎ হ্যাঁয়।
কাভি হাম উন কো কাভি আপনে ঘর কো দেখতে হ্যাঁয়।
উনি এলেন আমার ঘরে! কী লীলা ঈশ্বরের;
আমি একবার তাকাই তার মুখের দিকে, একবার আমার ঘরের দিকে।
আপনি হালকা হাসিতে বললেন – এখন আপনি ভালো তো – আমি আর্তি করলুম –
উনকে দেখে সে জো আ জাতি হ্যায় মুঁ পর রওনক,
বো্ সমঝতে হ্যায় কে বিমার কা হাল আচ্ছা ক্যায়া।
তাকে দেখে মুখে ভর করে যখন উজ্জ্বলতা,
সে ভেবে নেয় রোগীর তো অবস্থা ভালোই
আপনার খোঁজ নেই – পথ চাইতে চাইতে আমার চোখ পাথর – দৃষ্টি হারিয়েছে তার সরলতা
হুয়ি তা-খির তো কুছ বাইস-এ তাখির ভী থা?
আপ আতে থে মগর কোয়ী আনাঁ গির ভি থা?
বিড়ম্বনা হলো তবে,তার কারণও কিছু ছিলো?
আপনি আসতেন, তবে তার বাধাও কেউ ছিলো?
আপনি গভীর দৃষ্টিতে চাইলেন – আমি বুঝলাম –
কিস্ মুঁ-সে শুকর্ কিজিয়ে ইস্ লুত্ফ খাস কা,
পুরসিশ হ্যায় অওর পায়ে সুখন দরমিয়াঁ নেহী।
কোন মুখে গুণ গাইবো ওই অপরূপ আনন্দের,
জানতে চাই আর কাব্যের পথ বাঁধা পড়ে না মাঝে।
আপনি, মির্যা সাহেব – আপনি আপনার কথাই বলে যাচ্ছেন, আর কারুর তো শুনছেনই না,আমি –
ব্যাহরা হুঁ ম্যায় তো চাহিয়ে দুনা হো ইলতিফাত,
সুনতা নেহি হুঁ বাত মুকর্র কহেঁ ব্গ্যায়র।
বধির আমি তোমার কৃপাও দ্বিগুণ হওয়া উচিত,
বার বার না বললে কোন কথাই যে শুনি না আমি।
আপনি – এখন তো মৃত্যু কল্পনায় অস্থির নন – সে ভাবনায় ব্যাকুল নন -আমি? – অস্তিত্ব, অনস্তিত্ব,জীবন ও মৃত্যু নিয়ে শুধু খাপছাড়া এক জগতের ব্যপার –
মুহব্বত মে নেহিঁ হ্যায় ফর্ক জিনে অওর মরনে কা,
উসিকো দেখকর জীতে হ্যায় জিস্ কাফির পে দম্ নিকলে।
বাঁচা মরার ভেদ থাকে না প্রেমে,
তাকে দেখেই বেঁচে আছি, যে সর্বনাশার জন্য প্রাণ যায়।
আপনার এই দয়া তো আমায় নবজীবন দিলো, আহা সে যদি নিরন্তর হতো – তাতে নির্দয়তার মিল না থাকতো – পরিচয়ের প্রকাশ যদি অপরিচয়ে না করতেন – তা শুনে প্রথার আবরণ উঠানো হলো –
বা্ কর দে জো শওক নে বন্দ নকাব-এ হুস্ন,
গ্যায়র আয নিগাহ ফির কোয়ী হায়েল নেহী রাহাঁ
বাসনা যখন উন্মুক্ত করলো সুন্দরের সামনে পড়ে থাকা আবরণ,
এ দৃষ্টিই যখন পর, আর কোন বাঁধাই রইলো না।
আমি আবার অভিযোগ অনুযোগ শুরু করলুম – সে গল্প শেষ না হতেই না জানি কত কী শুনিয়ে গেল – আরো কত শোনাতে চাচ্ছিল আমার কাণ্ডজ্ঞানহীন মন – তা দেখে তাঁর চোখে সন্ধ্যার প্রথম তারার মতো বড় দুই বিন্দু অশ্রু ঝলমল করে উঠলো, আমার রক্ত লজ্জায় জল হয়ে এলো – কথা বন্ধ হলো শ্বাস ছটফট করতে লাগলো হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে এলো আমি দেখলাম আমার ভাগ্যতরী ডোবানোর আগে ঝড় দুবিন্দু জলের রূপ হয়ে আমার অস্থির করলো – বুলবুলের বুক আগলে ঢাকার জন্য ফুলের পাপড়িতে শিশিরের খেলা জমলো – প্রেমের অস্তিত্ব মিটিয়ে দিতে পাথর ধরলো জলের রূপ –
একটু আগেও আমার মনে হচ্ছিল এই আকাশের নীচে আমার মতো কেউ বঞ্চিত নেই – হতভাগ্যের নিশানা আর আমার মতো কেউ নয় – কিন্তু আপনার জলভর্তি চোখ দেখে মনে হ’লো আমি সবচে’ বড় নির্দয় – আমি যে অপরাধ করেছি শতপ্রাণের উৎসর্গেও তার প্রতিকার হয় না – সুন্দর ; সে নিম্পাপ সুন্দরের চোখে জল এলো আমার কারণে! হায় যদি আমার জিভে বাজ পড়তো – আমি অভিযোগ করার আগেই যদি নরকের আগুন আমাকে জড়িয়ে নিতো – প্রিয় অতিথি নয়, প্রাণ প্রিয়কে কাঁদানো! সে দুঃখ সামলানোর চেষ্টা ক’রে ব’ললুম –
করে হ্যায় কতল লগবট মে তেরা রো দেনা,
তেরি তরেহ কোয়ী তেগ নিগাহ কো আব তো দে।
কাছে আসার কালে আমায় শেষ ক’রে দিলে তোমার সে কান্না,
তোমার মতো দৃষ্টির তরবাবীতে কেউ ছিটিয়ে দেখাক জল!
আপনার স্বর স্তব্ধ – সেই স্বর যা শুনে ম’নে হ’তো আপনার জিভ আমার হৃদয়ের তর্জমা শোনাচ্ছে – ম’নে হ’তো আপনি আমার হৃদয় নিয়ে আবেগের নকশা আঁকছেন আর আমি সর্বাঙ্গ শ্রুতির রূপ হ’য়ে আমার গল্প আপনার মুখে শুনছি – সেই গল্পই জারী ছিলো -এমন সময় কার পায়ের শব্দে স্বপ্ন ভেঙে গেলো – আমি আমার ঝাপসা ধোঁয়ায় অস্থির এই পৃথিবীতে পৌঁছে গেলুম –
থা খেয়াল কে তূঝ-সে মু’আমলা,
জাব আখ খুল গ্যয়ী তো জিয়াঁ থা না সুদ থা।
স্বপ্নের মাঝেই সাধ ছিলো যেন তোমার সাথে কথোপকথন
যখন খুললো চোখ, না রইলো ঘুম না জাগরণ।
আমি আবার প্রতীক্ষার মাঝসমুদ্রে স্থিরতার খেয়াহারা হলাম – এখনি প্রাণের ভেতর এক কোলাহল ছিলো এবার তার সাথে আকাশ থেকে আরেক আজাব নেমে এলো – হৃদয়ের ক্ষতে এক স্বপ্ন অলঙ্কারের মতো দুলছিলো, না তাকে বাঁচাতে পারলুম না-
দম লিয়া থা না ক্যায়ামত নে হুনুয,
ফির তেরা বাক্ত-এ সফর য়াদ আয়া।
প্রলয়লগন হাঁপ ছাড়েনি, পায়নি এখনো বিরামক্ষণ
তোমার বিদায়কালের কথা মনে পড়ে।
আফসোস, জগত কাঁদলো না – আপনিও সাধারণ খোঁজ খবরের আগে বাড়লেন না – এই কয়েদহীন জগতেই কয়েদখানায় আলোর পরশ অন্ধকারকে শক্তি যোগায়, দয়ার ছিটে বঞ্ঝনার আগুন বাড়ায় -এখন কেউ যদি বলে যে, মির্যা সাহেব আপনি নিজে খোদ দিল্লীর লোক হ’য়ে লখনৌ এর বয়ানে কথা ব’লছেন – তো বলবো ভাগ্য মানুন গালিব লোক দেখানোর জন্য দুঃখ সয় না – তাহলে জগতের আর তার সাথে মানিয়ে চলার দায় কিসের?
ম্যায় অওর বযম্-এ ময়্-সে য়ুঁ তশনাকাম আউঁ,
আগার ম্যায় নে কি থি তওবা সাকি কো ক্যায়া হুয়া থা।
আমি আর কীনা তার পানের আসর থেকে তৃষ্ঞার্ত ফিরবো,
আমি যদি তওবা করেই থাকি সাকির কী হ’য়েছিলো?
আপনার আসার আর দেখা পাওয়ার সব আশা গলায় গলা মিলিয়ে অন্ধকার মৃতু্য জগতের দিকে পা বাড়াচ্ছে – বাসনার শুকনো খড় জ্বলতে জ্বলতে ক্ষত হ’য়ে টিকে আছে – আশার প্রদীপ জ্বলতে এক বিন্দু তপ্ত মোম হ’য়ে আছে -আর তাও হৃদয়সভা হ’তে চোখের পথে বেরুতে অস্থির আগুনের ঝড় তুলছে – প্রেমের উদ্দীপনা নিজের সব আগ্রহ উত্তাপ লুকিয়ে আর্দ্র চোখের জলে মৃদু পায়ে বুক হ’তে বেরুতে চাইছে – সেই আশার মানুষের আসার ছবি ভাবাতে পারছে না এই দৃষ্টি – এখন মৃত্যুই যদি এই আশার ব্যাথার কোন ওষুধ দেয় – আমার শবদেহের শেষ স্নানে যদি তাতে প্রাণ ফেরে তো ফেরে – যাক এই রূপরসের পৃথিবীতে আমার যা ভাগ তা পেয়েছি, একি কম? থাকুন আপনি, আপনার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক –
লে চলে খাক মে হাম দাগ-এ তামান্না-এ নিশাত,
তুম হো অওর বাসাদ রঙ্গে গুলিস্তাঁ হোনা।
সমাধীতেই নিয়ে চললাম আমি চাওয়ার বাসনার সমস্ত ক্ষত,
তুমিই আছো আর আছে নিজেই ফুল বাগানের রঙে ফুটে ওঠা।
-হৃদয় আকাঙ্খার প্রতিদান প্রার্থী . . .
-গালিব


০ টি মন্তব্য