অষ্টম চিঠি
নুকতাচিঁ হ্যায় গম-এ দিল উসকো সুনায়ে না বনে,
ক্যায়া বনে বাত যাহাঁ বাত বানায়ে না বনে ।
হৃয়বেদনা আমার আত্ম- সমালোচক, কেমন করে জানাই তাকে;
কোন আশা তার পূর্ণ হবে মুখে যার কথাই বেঁধে যায়!
জা নে গা লি ব
এই কথাকে অকথিতই থাকতে দিন আপনার ধর্ম আর বিশ্বাসের দোহাই (আহা, তা যদি হৃদয়ের ক্ষত না হয়ে হৃদয়ের শোভা হতো) খোঁজখবরের ফল তো দেখলুম, তার শেষ ঠিকানা অজানা – এই হবে, এদিকে আমি অভিযোগের হরফ মুখে আনলুম তো ওদিকে আপনার কপালে ভোরের আলো ঢেকে অন্ধকার ভোরের কুঞ্চন দেখা দিল – হৃদয়ের হাল শোনাতে গেলাম, তো ঝাঁঝিয়ে উঠলেন – দুঃখ শোনালাম ফলে ক্ষুরধার তলোয়ারের ঝলক দেখতে হলো – কোন ভরসায় বলবো? কাকে বলবো? আপনার অভিযোগ আপনারই কাছে? আমি আর এই নিচুপনা যে আপনার উপর রাগ করবো? এই আমিই কিনা ঘোষণা করবো আপনার উপর আমি নারাজ? ব্যাপার তো পরিস্কার, সেই ভুল যদি করেও ফেলি তো নারাজ কেন; জানতে চাওয়া হবে – সেই কারণও যদি বলি, সে কারণ কতটা ন্যায্য তা নিয়ে তর্ক হবে – তাহলে সে সব কথাকে আর মান – অভিমানের ছোঁয়া থেকে বাঁচানো যাবে? এই অর্থহীন তর্ক কি আরেক তিক্ততার পাকেই আঁচ দেবে না?
তুম আপনে শিকবে কি বাতেঁ না খুদ খুদকো পুছোঁ,
হয্র করো মেরে দিল সে কে ইসমে আগ দবি হ্যায়।
তুমি তোমার অভিযোগের কথাগুলো নিজের কাছে জানতে চেয়ো না,
কৃতজ্ঞ থাকো আমার হৃদয়ের কাছে, এতে আগুন চাপা আছে।
আমার কথায় অর্থ আর অর্থহীনতার তর্ক তো এই বলে শেষ করে দিয়েছিলাম যে – হে খোদা সে না বুঝেছে আর না বুঝবে আমার কথা – তার মানে যে তর্ক শেষ হয়েছিল, আপনি আবার সেই মৃত তর্কে প্রাণ সঞ্চার করলেন – অখূশী আর অভিমান কি এমন কোন কাজ বা চরিত্র যে তার আগপাশ পরিণতি ভেবেই করতে হবে- এ তো হূদয়ের এক হাল যার প্রকাশে অধিকারের কোন অধিকার নেই – এর প্রতিচ্ছবি, হাল জানতে যন্ত্রণায় অধিকার আর অনধিকারের শতরূপ, আরও সব সময়ই কোন না কোন অর্থ থাকে তাই আমি জানতে চাওয়ার দুঃসাহস করি – কোন গরজে আমার হাল জানতে চাইছেন? যদি আমার এই নারাজপনা আপনার কাছে অর্থহীনই হয় তবে তো কথা চুকেই গেল, অর্থহীনতার মাঝে আর কোন অর্থ খুঁজবেন? এ তো এক তামাশা, ভেবে দেখুন যদি চুপ থাকি তো চুপ থাকার কারণ জানতে চাওয়া হয়, কারণ বললে তাতে অর্থহীনতার অভিযোগ, বললে মুশকিল, না বলি তবে ও মুশকিল –
কহুঁ যো হাল তো ক্যাহতে হো মুদ্দোয়া ক্যাহিয়ে?
তুম হি কহো কে জো তুম্ য়ুঁ কহো তো ক্যায়া ক্যাহিয়ে?
যদি হাল শোনাতে যাই তো বলো, ছোট্ট করে বলো,
তুমি বলো, যদি তুমি এমন করে বলো তো আমি কী বলি।
সত্য আসলে এই, যদি আশাই না থাকে তো আশার কোন বৃত্তান্ত জানাবো-হৃদয় ফাঁকা , জিভ কী বলবে?
দিল মে হি কুছ নেহিঁ হ্যায় হামারে বগরনা হাম,
সর্ জায়ে য়ার হ্যায় না রহেঁ পর কহে ব্গ্যায়র ।
মনের মাঝেই বলার মতো কিছু নেই নয়তো আমি,
তার জন্যে মাথা দিতে রাজী, না বলে থাকতাম না ।
শোকর করুন আবেগ তার সমস্ত বিচিত্র রঙ নিয়ে হৃদয়েই রয়ে গেছে আর জিভেও এখনো বলার শক্তি বাকি আছে – কিন্তু গত দিনগুলোতে বেসুরের হাঙ্গামার কারণে খুব বেশী বিপর্যস্ত ছিলাম, তার অস্থিরতায় মন কিছু লিখতে চাইলো না – কিন্ত নিজের জীবনকে কি অস্বীকার করা চলে – সে অবহেলাও তো ভালোবাসারই প্রকাশ – এই অস্থিরতাও আর সব কিছুর মতোই চলে যাবে – চিরকাল থাকবে বলে কে আসে – বলতেই হয় এত অস্থিরতায়ও আপনার ভাবনার নকশায় কখনো রঙের কমতি পড়েনি – সেই চাঁদই তো দূর্যোগের ঘনঘটায় নিরন্তর আলো বিলিয়ে এসেছে –
গো ম্যায় রাহা রহিনে সিতমহা-এ রোযগার,
লেকিন তেরি খায়াল সে কাভি গাফিল নেহি রাহা।
যদিও আমি প্রত্যহের তুচ্ছতার উৎপীড়নে নাজেহাল হয়েছি,
তোমার ভাবনা মন থেকে সরে যায়নি একদিনও।
এখন এই বেদনার জগতের বিমর্ষ স্মৃতি দিয়ে এই কয়েক মুহূর্তের স্বস্তিকে বিষে ভরিয়ে দেয়া খুব জরুরী তো নয়, সেই বিরাগ অর্থহীন ওই দুঃখ অজায়গায় চলে গেছে – তবে হ্যাঁ, এই কথা জানানো জরুরী যে সেই সব চপল প্রেমের জোয়ার পথ ভোলানোর পথ তৈরী করতো – সেই জোয়ারের প্রাণ কমে এলো তাই তার ইশারাও আর রাখতে নেই -শেষ পর্যন্ত প্রেম সালিশ ডাকিয়ে বুদ্ধি আর আবেগের দুঃখজাগানিয়া দ্বন্দ্বকে শেষ করলো – সেই সব দিনেই সমব্যাথী আর যাদের দেখা পাওয়ার ভাগ্য হতো সেই সব বন্ধুদের জমিনেই এক গজল লিখেছিলাম তার কিছু আশার মনে আছে – লিখছি, তার শেরে যদিও প্রিয়র চলার চপল গতিকে দুশমনের জবানিতে করা হয়েছিল তবু এতো সত্যি যে আমি চুপি চুপি কাঁদতে কাঁদতেও তার স্মৃতিকে ভুলিনি আর নিজেকে নিজের ভুলে যাওয়াও এতদূর পৌছায়নি যে –
গ্যায়র য়ূঁ করতা হ্যায় মেরি পুরসিশ উস্কে হিজ্র মে,
বে তকল্লুফ দোস্ত হো জ্যায়সে কোয়ী গম্ খোবার দোস্ত।
পর এমন করে তার বিরহে আমার হাল জানতে চায়,
যেন আমার সমব্যথি বন্ধুদের আমার সাথে কোন সম্পর্ক নেই ।
বোঝাই যাচ্ছে কারুর ঘর জ্বলছে আর কেউ তাপ পোহাচ্ছে – আমার হাল? হৃদয় নিভে আসছে, বুকের আগুনে শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম – তো এই অবস্থায় এক সাহেব হেসে হেসে আমার দুঃখ কমাতে চান এই বলে,ভাববেন না -এ সবই মামুলি ব্যাপার, আজই তাগিদ করা হবে, কাল নাগাদ আপনি চিঠি পেয়ে যাবেন-
দেখলেন তো -ওই শয়তান তো আমার হাল জানেই না -তবু সমব্যথী হবার লোভ সামলানো গেল না? আর জিভও কী কথা বলতে এতই অস্থির? এই মেকি দরদিপনা-
তা কে ম্যায় জানুঁ কে হ্যায় উসকি রসায়ি বাঁ তলক,
মুঝকো দেতা হ্যায় পয়াম বা্দা -এ দিদার-এ দোস্ত।
যেনো আমি জানি প্রিয়র কাছ পর্যন্ত তার দৌড়,
আমায় দেয় প্রিয়র মিলনের প্রতিশ্রুতির খবর ।
সেই অনাকাঙিক্ষত সমব্যাথী কোন উপায় গ্রহণ করলো, শুনুন-
চুপকে চুপকে মুঝকো রোতে দেখ পাতা হ্যায় আগার,
হাস-কে করতা হ্যায় বয়ান শোখী গুফতার-এ দোস্ত।
মেহেরবানী হা-এ দুশমন কি শিকায়েত কিজিয়ে,
য়া বয়ান কিজিয়ে পাস লয্যতে আযার-এ দোস্ত।
চুপি-চুপি আমায় কাঁদতে যদি দেখে,
তবে হেসে শুরু করে প্রিয়র অপরূপ কথার কথা ।
শক্রদের সহৃদয়তার অভিযোগ করবো,
নাকি প্রিয়র দেয়া যন্ত্রণার মহিমা বর্ণনা করবো আমি!
এই হলো এই জামানার ভদ্রতার দশা; সমব্যাথীর খোলা দলিল আর আমি –
ম্যায় হুঁ অওর আফসুর্দগী কী আরযু গালিব কে দিল,
দেখকর তর্য-এ তপাক এ্যাহলে দুনিয়া জ্বল গ্যায়া।
আমি উদাস হৃদয়ের আশা -আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আছি, গালিব!
সংসারের উপেক্ষা দেখে জ্বলে পুড়ে মরছি ।
অবিশ্বাসীদের ওজর আর অজস্র বাহানায় এমন মন উঠেছে যে ভাবি বিশ্বাসের কারবার ছেড়ে নিজের গজলগুলোর কাছেই আশ্রয় নিই – প্রেমের বেফায়দা খেলায় আর আপন জীবনের শক্রতায় এত পরিশ্রান্ত হয়েছে এই হৃদয় – এখন পরের অভিযোগ আর কেন –
দিল-মে যওক-এ ব্সলে দয়ার-এ য়ার তক্ বাকি্ নেহী,
আগ ইস্ ঘরপে লাগি এ্যায়সি কে যো থা জ্বল গ্যায়া।
বুকে মিলনের আগ্রহ, প্রিয়ার স্মৃতি পর্যন্ত বাকী নেই;
এমন আগুন লাগলো এ ঘরে যে যা ছিলো সব ছাই হয়ে গেলে।
আমি হৃদয়ের কাছে খবর জানতে চেয়ে তার কাছেও আপনার মতই অবহেলা পেয়ে থেমে গিয়েছিলুম, তখনই আপনার তাজা জবাব বাসনার ম্যাহফিলের নিভু নিভু প্রদীপে নতুন আলো ছড়ালো- নিজের উপর নিজের অধিকার আবার হাতছাড়া হলো –
গরচে হ্যায় তর্জ-এ তাগাফুল পরদাহ দার-এ রায-এ ঈশক,
পর হাম এ্যায়সে খোবে জাতে হ্যায় কে বো্হ পায়ে জাতে হ্যায়।
প্রেমের রহস্য লুকিয়ে রাখায় যদিও পর্দা হলো অবহেলা,
কিন্তু আমি এমন করে হারাই যে তাকেই পাওয়া হয়।
আমার হৃদয় যদি এই সবই দেখতে থাকে, দুরাশার আশা যদি হৃদয়ে দোলনা ঝুলিয়ে ঝুলতে থাকে, কোনো ভিত্তিহীন অভিযোগ শুনে শিরায় রক্তের প্রবাহে জোয়ার আসে -যদি হৃদয়ে কোন উদ্বেগের কাঁটা চোখে রক্ত বহায় – যদি বিরহের দুঃখ আমার ধৈর্য্য আর শান্তির সঞ্চয়ে আগুন লাগায়, তারপরও কি অবাক হবেন যদি বলি –
দিল-হী তো হ্যায় না সঙ্গ্ব খিশ্ত, দর্দ সে ভর না আয়ে কিয়ুঁ,
রোয়েঙ্গে হাম্ হাজার বার কোয়ী হামে রুলায়ে কিয়ুঁ।
এ যে মানুষের হৃদয়, ইঁটপাথর নয়, ব্যথায় ভরে যাবে না কেন?
আমি হাজারবার কাঁদবো, কেউ আমাকে কাঁদায় কেন?
-গালিব


০ টি মন্তব্য