রাত খুলে দিচ্ছে ভাঁজ: জ্যোৎস্না নয়, দু-চোখের আলোয় দেখছি
তার—সব কারুকাজ। ক্রমে-ক্রমে—অ্যামিবার মতো—কত শত
সহস্র—পরত—তার—হচ্ছে বিকশিত, যেন-বা—মাংসল—ঢেউ—
বর্ণাঢ্য—বর্ণিল—হয়ে—উত্তাল—উত্তুঙ্গ-অধঃ—হচ্ছে অবিরত…

দেখতে—দেখতে আজ—তোমাকেই—বড্ড মনে পড়ছে—আনিতা:
লক্ষ—কোটি—সৌরবর্ষ ধরে—বুঝি—এই বিশ্বভ্রহ্মাণ্ড, আকাশ…
তোমার কাছেই—নিয়েছিল পাঠ! তাই আমি, এই—দুই—চোখে—
দেখি: গ্রহ,—উপগ্রহ,—নক্ষত্র—ও—সব ছায়াপথ—অক্টোপাস—

হয়ে ঢেউ তোলে,—হামাগুড়ি—দিতে-দিতে—বর্ণিল-বর্ণাঢ্য হয়,—
এ-আমাকে গ্রাস করে: এই রাত তোমারই ছায়া,—সত্যি কি নয়?

সুখপাখি

সুখ আসে দূর থেকে, বিরহও তা-ই, —আমাদের সুন্দর
মেয়েগুলোর ওপর সেই-হেতু বিরহ চাপাই। সুখে থাকো
সুকন্যা আমার: মাসে-মাসে উড়ে-উড়ে আসবে প্রবাস থেকে
সেই সুখপাখি। খাও দাও, ফুর্তি করো, আর, মুখে হাসি রাখো:

সুপাত্রে সোপর্দ করে চিন্তাহীন থাকি। অলোকায় থাকুক না
সে, কী ক্ষতি! জোটে যদি অট্টালিকা মাছ-মাংস খাঁটি গাওয়া ঘি,
থাক-না বিরহ শত, খেয়ে-পরে সুস্বাস্থ্যে থাকো— ও-আমার ঝি:
এ-রকম চিন্তা থেকে আমাদের কন্যাদের আমরা বিয়ে দিই।

খায়দায়, সাজেগোজে আমাদের কন্যারা, —কানে শুনতে পাই;
একদিন খবর আসে: কানাইয়ের হাত ধরে চলে গেছে রাই…

প্রেমের আগুন

হে সুন্দরী, তোমার—প্রেমের—আগুন—আমাকে বিতাড়িত
করে—নিয়ে যাচ্ছে—এ-শহর থেকে—ও-শহরে। ঘটি-বাটি ফেলে
ছুটছি,—ছাড়ছি—পিতৃ-পুরুষের—বাস্তু-ভিটা, মাতৃ-স্মৃতি। আর,
সন্তানের—ছিন্নভিন্ন—তপ্ত-তাজা লাশ, যদিও সে—চোখ মেলে—

কী-রকম—আছে চেয়ে! তবু আমি—একবার—পিছ ফিরে,—ফের
হাঁটু-ভর-করে-উঠে—ছুটছি, পালাচ্ছি দ্যাখো—প্রাণপণে। আহা,
আসমান থেকে ফ্যালা—তোমার ভালোবাসার পুষ্পবৃষ্টি আজ—
গুঁড়িয়ে-ধুলিয়ে—দিচ্ছে—সব—জনপদ, শস্যক্ষেত্র: আজদাহা—

যেন তুমি—কোনো জীব—অনিন্দ সুন্দরী, তবু—আদিগন্ত—জুড়ে
ছুড়ছ—মুখাগ্নি-ওঁম,—আর,—আমি ছুটছি,—মরছি—প্রেমে পুড়ে…

দেবী

দেবীদের হৃদয় থাকে না—থাকে দু-দুটি পা। যদি তুমি ফুল
দাও—পুজো কর—বড় জোর করুণাই পেতে পার—কিন্তু প্রেম
কক্ষনো পাবে না। যদি দেবীদের সমস্ত শরীর তুমি খোঁজ—
রাজকীয় পোশাক-গয়না পাবে, গোলাপের ঘ্রাণ পাবে, হেম

ত্বক—সুন্দর মুখ—তীক্ষ্ণ নাক—ভুরু—সু-কর্ণ—নিতম্ব পাবে,
রক্তিমাভ ঠোঁট পাবে, সরু-দাঁত—বক্র গ্রীবা—হন্তারক চোখ
পাবে, এক বিঘত জিহবা পাবে, সুডৌল দু-স্তন পাবে—উরু
যোনি-পুটকি আর পেট ভরা গুও পাবে, দু-হাত-আঙুল-নোখ—

সুশিল্পীত কটি-নাভি-চুল-হাসি—সবই পাবে—প্রেম তো পাবে না:
সব সুশ্রী নারীই দেবী—দেবীদের দেহে কোনো হৃৎপিণ্ড থাকে না…

নকল

নকল—সৌন্দর্যটুকু—খুলে-খুলে—তুলে নিয়ে গেলে—তুমি শুধু
স্ট্র্যাকচার,—তখন দেখব—কে কে—তোমার কবিতা পড়ে—কত
কত—লাভ, লাইক, ওয়াও কমেন্ট দেয়। শুনে রাখো: পোশাকের
বাইরে—যতটা—কুৎসিত,—সবটাই—মানসিক—ব্যধি,—ক্ষত—

ভেবে—এই সব তুমি—মেকআপেই—ঢেকে—রাখ! এইবার যদি
আমি পোশাকটাই খুলে নেই, বলো তবে—তখন তোমাকে আহা,
কেমন—দেখাবে?! যবে তুমি একা—সাজঘরে বসে—ড্রেসলেস—
হও,—দেখে নিতে পার ড্রেসিং মিররে: কতটা ভূতুড়ে। না, হ্যাঁ—

যেটাই বলো না কেন তুমি, তোমার যাকিছু, তোমারই সৌন্দর্য;
আর, এ-ও ধ্রুব সত্য: সৃষ্টি—স্বগুণেই বাঁচে,—স্রষ্টা সেথা বর্জ্য…

কাজ

জগতের—বড়-বড়—কাজ আছে—বাকি। বহু-বহু সমস্যায়—
জড়িয়ে-পেঁচিয়ে—গিয়ে—কিম্ভূত হয়েছে—এ-পৃথিবী। সেই সব—
ছাড়িয়ে ছুড়িয়ে—বৃষ্টিজলে ধুয়ে-মুছে—তোমার—সুন্দর মুখ—
যদি না দেখতে আমি পারি,—কিবা সার্থকতা জীবনের? রব,

কলরব,—চিৎকার, চেঁচামেচি—সব—বুলি-পাল্টাবুলি—পণ্ড
হয়ে যায়,—যদি না—বিযুক্ত—হই—পরচর্চা থেকে। নর্দমায়
রাখিনি এ-হাত, বলো, রেখেছি কখনো মুখ আমি পয়োজলে?
জিরাফের লম্বাগলা: সুউচ্চের পাতাগুলো নাগালে সে পায়—

এর চেয়ে কী চাওয়ার আছে তার! তাই সে নীরব থাকে। আর,
আমিও থাকি না দলে,—নিরালে সরাচ্ছি মগ্ন জগতের ভার…

ধান, প্রেম

সারা মাঠ সোনা হয়ে গেছে। চেয়ে দেখি—হেমন্ত এসেছে! আর,
হেমন্ত এলেই খুব ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে কিষান-কিষানী:
নাওয়া নেই, খাওয়া নেই—নেই ঘুম, বিশ্রামের এক বিন্দু লেষ:
এই সব ব্যস্ততার হেতু কেন আগে আমি বুঝতে পারিনি?

ধান পেকে গেছে, আমাদের প্রেমও পেকে গিয়েছিল—হায়! ধান
পেকে গেলে মাঠে-মাঠে ঝরে যায়—তাই, খুব বেশি পাকবার
আগেই সে-ধান কেটে, উঠোনে শুকিয়ে, গোলা ভরে রাখে বোদ্ধা
কিষান-কিষানী। প্রেম পেকে গেছে জেনেও তুলিনি যেই প্রেমভার

ঘরে—গেল ঝরে: চেয়ে-চেয়ে দেখি—সেই প্রেম আজ কাকে খায়!
ধান, প্রেম যদি পাকে—ঠিক-সময়ে না তুললে তা—ঝরে যায়…

জৈবনিক বৈষম্যতার ভেতর

জৈবনিক—বৈষম্যতার—ভেতর—ঈর্ষার—ফুল ফোটে—নষ্ট,—
পচা হাহাকার—আর—বিষবাষ্প—রক্ত-রক্ত ব্যথা—নিভৃতির—
আঁধারে তাকিয়ে থাকে। দাম্পত্যে, হে সুন্দরী সুষমা, তুমি পাখি—
উড়ে চলা,—নিজের—গন্তব্য ছাড়া—কিছুই বোঝ না: নদীতীর—

অথবা—আকাশে—যত—কাশ কিংবা শুভ্র মেঘ, আষাঢ়-শ্রাবণ
জুড়ে জুঁই,—আরো ধরো: বসন্ত-বাতাস—আর—হেমন্তের—পাকা
ফসলকে—তুমি—রাখ নাই মনে, কিন্তু এ-তৃষ্ণার্ত গ্রীষ্মে—ঠিকই—
রেখেছ দহনে!—শীতেও কি—দিয়েছ সামান্য ওম—হে বিশাখা?!

আহা,—জৈবনিক বৈষম্যতার ভেতর—এই—শ্যাম—নিধুবনে—
একটি সাপ,—একটা নকুল: প্রবল-প্রমত্ত—আছে মহারণে…

সভ্যতা

একে—তুমি—বলছ—সভ্যতা? কী করে—বলছ—শিষ্টাচার?! এই
পৃথিবীর অরণ্যের আকাশে-আকাশে—পাখি ছাড়া কোনো কিছু
ছিল কি—খেচর? আহা, এখন—বাতাস—ক্ষুব্ধ ও বিষাক্ত ভারি:
উড়ছে—তোমার—চুল, আর, লালদোপাট্টা তোমার—পিছু-পিছু,

গলায়—পেঁচিয়ে—পতপত: যেন আত্মঘাতী—কোনো নাগ। হায়,
তোমার—প্রশস্ত—বুকে—সুডৌল—দু-স্তন ছাড়া—হৃদয়—বলে যে
কিছু ছিল—তা তো আর বোঝাই যায় না! শিশ্নে-শিশ্নে উত্তপ্ততা
বেড়ে উত্তেজিত হচ্ছে এ-পৃথিবী: জলে, স্থলে, আকাশের ভাঁজে—

ছুটছে আগুন-ড্রোন, ব্যালেস্টিক, ক্রুজ, মিগ: রক্তারক্তি খেলা:
আলতামিরা গুহাচিত্র—যেই রক্তে আঁকা শুরু—সেই উষাবেলা…

মৌরি

তোমার নাম দিলাম—মৌরি। মৌরিফুলের সৌন্দর্যের মতোই
সে-এক দেশ আছে—সুন্দরীতমা। সে-দেশের মানুষেরা কালো,
তবু, মন ভালো—এর বেশি বলিব না—তাহা। এই সব সূত্র
ধরে-ধরে যদি-বা কেউ তোমাকে খুঁজে পায়—পেয়ে যাক—ভালো:

আমি মোটে চিন্তিত নই—তা নিয়া। কিন্তু, মেয়ে—তুমি সেই ভয়ে,
সরে গেছ: হয়তো বাসনি ভালো, নয় তো প্রেমিক ছিল—আর,
আমাকে বানিয়ে ছিলে সিঁড়ি—কী আমার হয়েছে তাতে ক্ষয়?
এ-বুকে—পা রেখে-রেখে—ধুলা ফেলে ছেঁড়া স্যান্ডেল-জুতার—

এক তলা দুই তলা করে—কত কত জন গেল ছাদে—আর,
ছাদের রেলিং বেয়ে পড়ে গেল—কতটুকু ক্ষতি হলো কার?!

আছিয়া

আছিয়ার—রক্তাক্ত-নিথর—শরীরের—মতো—আমাদের—এই—
দেশ! কী সবুজ—ঘাস, নীরব আকাশ,—যেন সকালের—গোল—
সূর্যটা—উলটে—ভেঙে—রক্তের প্লাবন হয়ে—জমে—পড়ে আছে!
আর, তিন-তিনটা কাক—কাঁচা ছা-টাকে—ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়ে—দোল

খাচ্ছে বসে—পাতার আড়ালে। এ-রকমই কি—চেয়েছি আমরা—
আমাদের দেশ: বলো, কোনো কালে?! দিনে-দিনে কত কিছুই যে
বদলে যাচ্ছে, তা কেন—আমরা বুঝি না! সেই বাল্টিকপারের—
জলডাকাতেরা আজ—নানা দেশ থেকে দীক্ষা নিয়ে—পিলসুজে

পরিণত—হয়েছে,—প্রশান্তপারে। আমরা—হইনি—তবু—সভ্য,—
আমরা কি—হব না—মানুষ,—শুধু রয়ে যাব—বর্বর,—আরব্য?!

প্রেমের কাব্যগাথা

বিপুল—বিপ্লবের—ওপর—অগ্নিবৃষ্টি—হলো: পুড়ল—চিৎকার,—
মাতৃবক্ষ, রক্ত,—প্রেমিক ও আরক্ত গোলাপ। মেধা পুড়ে গেলে—
কখনো কি—হয়ে যায় ছাই?! বরং—অজস্র উল্লম্ফ জাগে—আর,
আকাশ-আসন থেকে—হিঁচড়ে নামিয়ে এনে—পদতলে ফেলে—

দলে-পিষে—ধুলোয় মিশিয়ে দেয়—মেঘের জঞ্জাল। মাহমুদা,—
বিপুল—বিপ্লব শেষে—নতুন উদয় আসে—আর, সে-আলোতে—
গুম—খুন—উন্মুক্ত—উদ্ভাস—হয়,—আয়নাঘর—উগড়ে দেয়—
সফেদ কঙ্কাল। তাই, সহসা বিক্ষুব্ধ ব্যথা—জিঘাংসার স্রোতে—

ধেয়ে—দ্রুত—বিধ্বস্ত-বিনষ্ট করে—কিছু শ্বেত, পৃথিবীতে—ঢের—
ঘটেছে তা: হে সুন্দরী—এ-রকমই কাব্যগাথা—তোমার প্রেমের…

প্রথম প্রেম

প্রথম—প্রেমের—গল্প: তুলনা—বিহীন। তার—পর—একে-একে—
কত—শত—যুবকের কাছে—চলে—গেছ—তুমি,—বসেছ—নদীর
ধারে, জ্যোস্নারাতে বনে: উতলা আগের মতো হয়েছ কি?! আহা,
প্রথম—প্রেমের—টান,—বারণ—মানে না কেউ, যেন সে—বধির:

দেহাতীত—সেই প্রেমে—তনু-মন রাঙে—আর—দুই তীর—ভাঙে;
শর্তহীন, স্বার্থহীন—আজীবন—সেই শিখা—জ্বলে-জ্বলে ওঠে…
কারণ—তা—গহিন-হৃদয় থেকে—আসে। তারপর—যত প্রেম,—
প্রশান্ত বিলের মতো: আছে জল—শাপলা আর পদ্মরা—ফোটে,

নয় তো—চৌচির মাঠ: দ্বিতীয়, তৃতীয়…প্রেম—প্রকাশ্যেই আসে;
প্রথম যে প্রেম—হায়,—কখনো কি সুলিখিত—থাকে ইতিহাসে?!

রিফিউজি সুন্দরী

সুন্দরী, তোমার কোনো নিবাস ছিল না: এখানে-ওখানে ছিলে…
তারপর, একরাতে—আতকাই—আমার মঞ্জিলে ঢুকে তুমি—
হাঁটুগেড়ে বসলে। আ, কত হট্টগোল: কত্ত লাল, কত্ত কালো
ফুটল! সে-ফুলে বোল্লা আর ভিমরুল জড়াজড়ি-চুমাচুমি—

পঞ্চায়েতেরও—সে-উৎসবে—সমর্থন! এখন তো—যথার্থই
বুঝতে পারছি আমি, হে পশ্চিমি হাওয়া হে বাঘিনী, তোমার সে
আগমন পিছে ছিল ভিন্ন এক চাওয়া: তারই সূত্র ধরে-ধরে
অ্যাত-অ্যাত রক্তফুল! এই—বুক চিতিয়ে দিয়েছি অট্টহেসে…

আমি কবি, আমিও তো প্রেমিক পুরুষ—শোনো মাহমুদা,—রিটা:
হয় গুলি করো, নয় বুকে ধরো—দিয়েই তো দিছি বাস্তভিটা…

ঘাস

ঘাস খাচ্ছে টিভিতে একটা শিশু—গাজা উপত্যকায়। তোমার
বাঁ-হাতখানা আমার ঘাড়ে, উঁচু ডান হাত নাড়িয়ে-চাড়িয়ে—
তুমি বলে যাচ্ছ, ‘শোনো, ঘাস খুব নির্ভেজাল, যেই সব প্রাণী
ঘাস খায়, তারা কিন্তু অহিংস্রই হয়।’ আমি দু-চোখ বাড়িয়ে

হঠাৎ তখন দেখলাম,—আহা, শিশুটি ক্রমশ লতা, পাতা,
গুল্ম আর ঘাস—চিবোতে-চিবোতে—আস্ত একটা গরু হয়ে গেল:
শক্ত-সামর্থ্য শিং, অথচ কী নিরীহ! আমরা সে-ষাঁড়টাকে টেনে,
কষে, বেঁধে, সপাট শুয়িয়ে—কোরবানি দিয়ে দিয়েছি। এলোমেলো

খুন্তি মেরে-মেরে তুমি সেই মাংস রাঁধছ, বাড়ছ—কাঁড়ি-কাঁড়ি,—
আর, কত-কত আইটেম হয়ে—চলে যাচ্ছে—মিত্রদের—বাড়ি…

দেখা

হেমন্তের শীত-শীতে দেখা হলো—আমাদের দু’জনের—ফের…
গাজায় তুমুল যুদ্ধ—আকাশে উড়ছে ড্রোন, হাইপারসনিক
মিসাইল, রকেট লঞ্চার আর ধুলাস্তূপমতো ধসে-খসে
পড়ছে হাইরাইজ বিল্ডিং—চিৎকারে মুখরিত চারিদিক—

আমরা দুজন তবু মুখোমুখি—চেয়ে আছি অপলক—এক
জন আরেক জনের চোখে। দৃশ্যটা যেন-বা বাঘ-বাঘিনীর—
যেন রাতে রমণার বৃক্ষতলে দু-জোড়া টর্চলাইট জ্বলে।
না প্রেম, না ভালোবাসা—আমরা দুজন তবু ক্ষিপ্র ও অধীর—

ঘনশ্বাস, খামচা-খামচি, কামড়া-কামড়ি, তীব্র চুমাচুমি—
খুলে যাচ্ছে পেটিকোট, ছিঁড়ছে শার্ট ও ব্র্যা, বাজছে ঝুমঝুমি…

মূল্যহ্রাস

প্রেমে মূল্যহ্রাস—তাই, উবে যাচ্ছে সম্পর্কের বিমা। এত-এত
রক্তফুল—ফুটছে—সর্বত্র: বঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে, মধ্যএশিয়ায়—
সবখানে—তোমার রোমশ হাত, তোমারই তো চুল—আর—চোখের
কালোয়—অবরুদ্ধ পদবাচ্য সব,—কে রেহাই পায়?!

তোমার ধ্রুপদী নাচ,—বাজে রাগ কাহারবা, ঢোল ও ডমরু…
সমুদ্র সরব এবং আকাশটা ছেয়ে গেছে—অগ্নি আর ড্রোনে:
ভেঙে যাচ্ছে সংসার, দাম্পত্য, ঘর, শুভাকাঙ্খী, বিশ্বজনপদ;
উড়ছে সুসভ্যতার—প্ল্যাকার্ড, পতাকা,—উচ্চ আনন্দভবনে

মাহমুদা, যে-সামান্য প্রেম ছিল—পিরামিডে, পঞ্চবটী বনে,—
যদি তা—থাকত মনে, এত রক্ত ঝরত না—তোমার চুম্বনে…

২ টি মন্তব্য

  1. Chowdhury Ferdows

    আমার ছন্দোবদ্ধ গদ্য সনেটগুচ্ছ ছাপার জন্য অশেষ ধন্যবাদ কবিতাপত্রের সম্মানিত সম্দপাক, কবতাপত্র এবং কবিতাপত্র-পরিবারকে।

    আমার এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব সময় শুভকামনা…

    উত্তর
  2. Chowdhury Ferdows

    আমার ছন্দোবদ্ধ গদ্য সনেটগুচ্ছ ছাপার জন্য অশেষ ধন্যবাদ কবিতাপত্রের সম্মানিত সম্পাদক, কবিতাপত্র এবং কবিতাপত্র-পরিবারকে।
    আমার এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব সময় শুভকামনা…

    উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।