রক্তচাকা

রশীদ হারুণ

ভূগোল, তোমার সঙ্গে আরও বিষাদিত বিন্দু হয়ে জাগি—
ঘুরছি নিজের হস্তে! গ্রহগুলোর সিনেম্যাটিক দৃশ্য
রোপণ করছি চোখে। তুমি, বীজের তরুলতায় দোল
দিচ্ছ মধ্যরাত্রির হাওয়ায়— ওহে গোলকের ধ্বনি, বসো,
একটি ছায়ার তলে ছিন্নমূলের লাশের গন্ধগুলো
আমাকে রেখেছে লোল-ধরা উৎকট অনুভবের মধ্যে।
ভেতরে/বাহিরে ব্রহ্মতালু— অনুভবে দৌড়লিপি,
গোপন মিশন, চাবুকের হ্রেষাধ্বনি আর দূর-চিহ্ন
নক্ষত্রের হলুদ ক্রলিং। অনেক পাথর, ধুলোঘড়ি
ঘুরছে আমার হাড়ে! ফসফরাস জেগেছে নীল, দ্যাখো,
গোলকধাঁধার তলদেশে আমি কি পুড়িয়ে যাব এই
নশ্বরতার তৃষ্ণার্ত-মজ্জা— ব্যারেল ব্যারেল দুঃখ-তেল!
ফুটন্ত ফকির আমি, ওহে, ভূগোল শাস্ত্রের ঘুরপথ,
দেহভাণ্ডে, কত টেনে যাবো পায়ের/চোখের রক্তচাকা!

জখমচিহ্ন

জখমের জামা পরে আছি। মনে হয়, তুচ্ছ সবকিছু। দিগন্তের দিকে উড়ে যাচ্ছে একটি পাতলা করিডোর। রাত্রি পেকে উঠছে পথের মাথা বরাবর। গন্তব্যে ফিরছে ঘন্টাশূন্য আইসক্রিমওয়ালা। সন্ধ্যে পার হলো। কাঠপোকা বন্ধ রেখেছে শব্দের ডানা। কেউ একজন চলে গেছে। মাগফেরাত কামনা করছে মসজিদ থেকে। কানের ভেতর শব্দগুলো খাড়া হয়ে ঢুকে যাচ্ছে। বায়ূ সময়কে নিয়ে কোথায় রাখছে? নিজেকে দৈবচয়নে ফেলে ওজন করছি। অন্তর্গত জখমচিহ্নগুলোয় হাত রাখি : পাখি ও পিঁপড়ে এভাবে চলছে কেনো! হাজার শক্তির টর্চ জ্বালিয়ে নতুন চোখফোটা পাখিছানা চিঁ-চিঁ করছে বিরামহীন। এতোদিন গেলো ও এখনো উড়ছেনা! জলেপড়া একটি পিঁপড়ে নিজের আঙুলে তুলে আমিও হেসেছিলাম! সেও কুরকুর করে হাঁটছে নিরবে। মক্তবের মাওলানা চেয়ে আছে। আরবি কঠিন লাগে। তাকেও গোলাপ দিয়েছিলো কেউ, আড়ালে, দেখেছিলাম…

মানুষ ও অনুসঙ্গ মাথাগুলো কি করছে জখমচিহ্নের ঘরে!
ভেতরের তাঁতকল থেকে কাপড় বোনার শব্দ শুনি।

সমীকরণ

গমখেত পার হয়ে একটি কফিন ওড়ে আয়ুদের কাঁধে।

আর চোখে, নিরুত্তর রিপুকর্ম অতিক্রম করি আমি—

জলের ওপর বাজপাখির নখের হুইসেল।

বিষুব রেখার পাশে— কল্পপ্রবণ শ্বাস-মেশিন
দাঁড়িয়ে রয়েছি, দেখি— আব্বার কপাল বরাবর, মাটি ফুঁড়ে,
একটি ডুমুরগাছ শৈশব খেলছে—

জীবন সেলাই হচ্ছে মৃত হাড়ে!

পাতার দরজা খুলে উড়ে গেল একটি দোয়েল।

বাড়ি ফিরে,
লবণের অঙ্ক কষে দাঁড়িয়েছি মায়ের সামনে—
জ্ঞানার্জন আর মায়ার্জনের সিথানে সন্ধ্যা শুয়ে আছে।

স্বপ্ন

চাঁদ থেকে তুমি পেয়েছো কি নৌকোর ধারণা!

ওড়ে, শূন্যনৌকোর টেবিলঘড়ি। ওড়ো—
তোমায় ভেতর বিরাজিত তোমার কুঞ্জবিহার।
সোনার বকুল তলে, হৃদয়ে, যা কিছু ভাবো,
সব, এক নিরন্তর সাইকোলজির ফটোগ্রাফি।

এ-জীবন থ্রিলার জগত, একান্তের ওয়েব সিরিজ—
যখন হয়েছে রাত্রি, এবং শোনো,
নিভৃত ইচ্ছে-রাখাল তুমি
রঞ্জিত চাঁদের সাথে গাইছ উড্ডয়নের গান—

অনেক ওপরে স্বপ্ন-বপনের বীজভূমি। ভাসো—
হৃদয়ের মহাকর্ষে দুলিতেছে নক্ষত্রের গমখেত,
নিউরনে, পর্দাগুলি খুলে দিচ্ছে
তারা-নৌকোর বাঁধন, অপার…

আর, স্বপ্ন দেখা এক গভীরতম পারফিউম।

স্টেথোস্কোপ

হৃৎস্পন্দন শুনছি— বোধগম্য হচ্ছে শব্দ,
রসায়নবিদের কন্ট্রাক্ট আর
টিউবওয়েল চেপে যাচ্ছে বুকের তলার জল।

এবং একটি সর্বোত্তম পল্লীগীতি ভাষান্তর হচ্ছে কানে…

ঘনিষ্ঠতার বিরোধগুলি নিচ্ছি—
সমস্ত খবর ধ্বনিবিদ্যা— কাছে থেকে উঁকি দিচ্ছে
সঙ্কেত ও প্রেসক্রিপশন।

এবং মস্তক-কলম লিখছে ডিসপেনসারি…

শব্দগুলি ঠিক করো— এটা তুমি দেখতে পাচ্ছ না।
সব শব্দ দেখা যাবে না, নিশ্চিত থাকো,
না-দেখা শব্দের চিকিৎসা জরুরি দরকার।

০ টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।