নাসরিন আপাকে নদীর ওপার থেকে পাঁচটি মোমবাতি
সৈয়দ আহমাদ তারেক
একজন- কী ক’রে কাটায় দিন জানেনা কেউ
কেউ কেউ দেখে, ফেরে সে একাকী ঘরে সন্ধ্যেয়।
দিনের সমস্ত শ্রম তার
ব্যর্থ হয় একজন শিক্ষিকার পেছনে।
গৃহকোণে সুখী সম্পন্ন সাধ পূর্ণ হবার বহু আগেই
অন্য একজন অকৃতজ্ঞ তপস্বী পুরুষ
নিয়ে গেছে রাত্রির বালিশ,
সমস্ত স্বাস্থ্যকর সুধা, বয়সের উত্তাপে স্নিগ্ধতা,
দৃষ্টির সবুজ।
আত্মজ-আত্মজা বুকে নিয়ে আজ আর
কারোরই নয় সে, নিস্তরঙ্গ নিরঞ্জন
তার নিজস্ব সকাল দুপুর সন্ধ্যে রাত্রি ভোর ও
আকাশ আসে, তার কাছে শুধুই আকাশ হ’য়ে স্বপ্নহীন।
কত বর্ষার আষাঢ় অথবা ফাগুন,
মধ্যরাতে লাজুক বৃষ্টির মতোই
একঝলক দেখা দিয়ে সরে গেছে পরক্ষণেই-
জীবিকার দু’হাত অবিরাম বুনে যায় কাপড়ের ফুল নিশীথে।
মধ্য তিরিশের গৃহিনীরা সাজায় ঘর, আসবাব,
এই সব ফুলে। শুধু তারই
মধ্য তিরিশ বিষন্ন, স্থূল, অচঞ্চল, অকস্মাৎ অচেনা।
উদয়াস্ত ক্লান্ত চরণে নিষেধের অদৃশ্য বেড়ী বেঁধে
টেনে টেনে হেঁটে যায়- একজন।
না, মুছে যায়নি, এখনো তার বুকের গন্ধ, চোখের কৌতুক
হাত দু’খানি ধরলে এখনো
যুবক ঠোঁটে ফিরে আসবে ভেজা লাবণ্য।
কিন্তু তেমন সাহসী পুরুষ কোথায়?
দাঁড়াবে এসে সম্মুখে সুন্দর, ঋজু, ফিরিয়ে দেবে
অতীত নয়, নির্জন উঠোনের এক প্রান্ত জুড়ে
মৃত জ্যোৎস্নায় প্রাণ,
চিৎকার ক’রে বলবে, দেখো,
দক্ষিণের বারান্দায় পশ্চিমী রোদে
বিকেলের গোলাপ সবচে’ সুন্দর।
- [ সৈয়দ আহমাদ তারেক মুলত গল্পজীবী। কবিতায় হাত মক্শো করছেন খুব বেশিদিন নয়। আমাদের প্রিয় পূর্বজন তারেক ভাইকে আমরা অল্প সময়েই কাছে পেয়েছি, যতটকুই পেয়েছি তার কবিতার মতই- সমস্ত স্বাস্থ্যকর সুধা, বয়েসের উত্তাপে সি্নগ্ধতা/ দৃষ্টির সবুজ।- এমন আশ্চর্য যাপনের মতই মনে হয়েছে। এই তরুণদের সবুজ প্রান্তরে এক বয়সী আকাশকে মেলে ধরতে আমাদের কার্পন্য কই- তারেক ভাই, আমরা আপনাকে বৃদ্ধ বলতে জানিনা। – সম্পাদক ]


০ টি মন্তব্য