প্রথার প্রসাদ
সুমন মাহতাব
যার জন্যে সপ্তাহান্তে কড়া নাড়া দরোজায়
প্রাত্যহিক গলা টিপে মারা অবরুদ্ধ ইচ্ছের বিস্ফোরন
তখন শুধু তার অনিচ্ছাকৃত কাজ; আরোপিত ব্যস্ততা!
আমি স্মৃতিস্তম্ভের মতো বসে থাকি।
দেয়ালে টিকটিকি চোখ, ঝুলপর্দায় খসখস তেলাপোকা,
আমার চোখের কার্ণিশে ভোরের সি্নগ্ধ রোদ; দোয়েলের গান,
ব্যস্ত চড়ুই আর ইতিউতি টুনটুন আসা যাওয়া।
প্রাচীন বটের ঝুরি ধরে টলটলে অমর সাগরের জলে
মন্দির আরতি স্তোত্রপাঠ শেষে প্রথার প্রসাদ হাতে
ফিরে যাই সিদ্ধ পূজারী
প্রাত্যহিক গলাটিপে মারা অবরূদ্ধ ইচ্ছের বিস্ফোরণ
সপ্তাহান্তে কড়া নাড়ে দরোজায়।
দেয়াল
একটি শব্দের জন্য অষ্টপ্রহর হাহাকার
উপাদেয় রসনা তৃপ্তি শেষে অভূক্ত বিবর নিয়ে
সিগারেট ধুম্রজালে শরীরময় কুয়াশার চাদরে
নিজেকে নগ্ন করে ঝেড়ে মুছে তুলে রাখি
সযত্ন সাজপোশাক। চারপাশে মাল্টি-ষ্টোরিড
কংক্রিটের গাঁথুনিতে চাপা পড়ে গেছে জীবন্ত
শব্দের ভিত। আমি আদিম নখরে দেয়াল
আঁচড়াই … … রক্তাপ্লুত হাতের গন্ধ শুকে
অনুভব করি শব্দের প্রাণ স্পন্দন। স্ত্রী-কন্যা-
বন্ধুরা ব্যান্ডএইড-লিউকোপ্লাষ্ট আস্তরনে ভিত
গড়ে অস্তিত্বের দেয়ালে দেয়ালে … …
আরব্যরজনী
এখানে অক্ষমতা ক্ষমাযোগ্য নয়।
একগুয়ে ট্রেকিংয়ের রসদসম্ভার কাঁধে
টেন্ট-নাইফ-গাইতি-ক্লাইম্বিং রোপ বেয়ে
সাফারি বুটে পৃষ্ঠ কুমারী জমিন
আরেকটি উচ্চতার পাহাড়শীর্ষে
অনাঘ্রাত-যোনী সাজিয়েছে
আরোহন স্বপ্নবিলাসী দৃঢ়তায়
দ্রুত স্খলন সিক্ত বিছানায়
গ্লোবালাইজেশন ন্যায় বিচারের নিক্তিতে
ঘুমোচ্ছে আরব্যরজনী- মরুদ্যান-বাগদাদ
হায় সাদ্দাম! গুডনাইট!
নূহের নায়ে
কিসের টানে যাত্রা পথে কক্ষচ্যুত উল্কাপতন
মাত্রাছাড়া আকর্ষণে ছাই ভষ্মের শব্দপতন
হিংসুটে মেঘ রং ধরেছে নাকের ডগায় কানের তলায়
স্তব্ধ বাতাস উস্কানী দেয় প্লাবণ হয়ে ভিজিয়ে দেবার।
নূহের নায়ে যাত্রীবিহীন পলক ছোঁয়া হলুদ রুমাল
স্পর্শঘ্রাণের চিড়িক মারে অভূক্তঘর ইন্দ্রীয়ভার
প্রাচ্যভূমে মড়ক জ্বরে ধুকছে অসাড় পুরাণ কথা
ডটকম আর সাইবার স্পেস মোবাইল সেলে প্রণয়গাঁথা।।


০ টি মন্তব্য