ভুবন
আকবর আহমেদ
ভূগোল থেকে বিচ্ছিন্ন বসত করি অন্য এক ভুবনে
সিথানে আছে এক ভুবন পৈথানে আরেক
তৃতীয় এই মানচিত্র প্রসব করে তৃতীয় জনম
প্রথম ও দ্বিতীয়ের পর তৃতীয় অথবা তেত্রিশ পথের বিকল্প
ঢেউ তুলে যায় চেতনার আদিগন্ত রশ্মি ও রেখায়
শ্রেণীহীন জাতপাত এসে পড়ে জীবনের ভগ্ন দশায়
নির্মাণে ও পরিকল্পনায় ঝরা পাতার মতো ভাসে
প্রথম অংশ থেকে আসে থাবা ও আক্রমন
দ্বিতীয় অংশ থেকে আগ্রাসন ও বাণিজ্য যান
চতুর্থ অংশে আছে আশাবাদ ও সৃষ্টির অম্লজান
তৃতীয় এই অংশে মোহিনী মায়ের জন্মদেয় মাটির সন্তান
যুদ্ধ ও মুক্তির বাসনায় বুকের দশদিকে জমায় উষ্ঞতার তরবারি
শুনে ফেলে বৃষ্টির গান,
সত্যের সমস্ত লোমকূপে ধারন করে উল্লাসিত বীজমন্ত্র।
কলোনি
এক কলোনিয়াল গোলক বরাবর আমার জন্মভূমি ঢুকে পড়ে
তাঁর আদিম রূপ ও ভগ্নাবশেষ সহ …
চোখ খুলতেই অট্টহাসিতে ভাসিয়ে নিতে চায় নষ্ট মাকড়সার দিকে
ক্রুদ্ধ প্রসন্নতায় আমার জন্ম ও মৃত্যু একসাথে প্রত্যক্ষ করি
প্রতিদিন একেকটা আদেশ পত্রে সই করি আমি
উল্লাসমন্ত্রে ধীরে. ধীরে. বিক্রি করে দেই ঘুম ও অনিদ্রা
কলোনির ভেতর কেবলই একা হতে থাকি- ধীরে ধীরে
এক বল্গা অন্ধকার সহ নিমজ্জিত হই নিজেরই অন্ধকূপে
অধীনতার বদরূপ থেকে ছুটে যেতে থাকি- জন্ম নিধুবনে
অতিপ্রকৃত এক ভালোবাসার জোরে আমি ঘুরে দাঁড়াতে চাই
আমার চারিদিকে জীবন বিন্দু জ্বলে উঠে- কাতারে কাতারে
জোনাকির রঙ মাখা কুয়াশায় ভিজে উঠে শরীর, কেননা
আমার আকাঙ্ক্ষার ভেতর এখনও দুধভাত কথা বলে।
প্রত্নপাহাড়ে পাইন
এক.
কার টানে কে এ রূপ মেলে ধরেছে
মগ্ন সুতোয় জড়িয়ে নিচ্ছে সময় ও উন্মুক্ত গ্রন্থি কোষ-
পাহাড় ও মেঘের খেলায় পাইন বালিকারা
রূপান্তরিত স্বপ্ন ও রহস্যের কথা বলছে
প্রত্ন পাহাড়ের রূপকথা জলকনা ও বায়ুসূত্রের ভিতর
স্বপ্ন ও মৃত্যু এক সাথে হয়েছে উন্মাদ
অস্তিত্বে র এ দৃশ্য পৃথিবী মহাশূন্যতা ও প্রত্ন-পললের
মৃত্যু সংগীত ভেঙ্গেই রচিত।
জীবনের অনবদ্য ভঙ্গিমায় এইসব কথামালা
জল, বায়ু ও বরফের মতো সম্পর্কসূত্রের আদিরূপ।
দুই.
এরূপের মেঘসূত্র নিজেরই স্বভাব বশত ভেঙ্গে পড়েছে
যোগসূত্রে আমিও মেঘ হয়ে গেছি
মহাশূন্যেতা আমাকে ভাসিয়ে নিচ্ছে
ভুলে গেছি অস্তিত্বের পোড়া কাঠ
আমার কবিতার ভাষা মেঘের অনায়াস চলাচলও
উজ্জল দ্যুতির কাছে পেতেছে হাত
ওহে প্রশান্ত মেঘ তোমার হৃদয়ে আমার হৃদয়।


০ টি মন্তব্য