ফেব্রুয়ারি ৮, ২০০৪ | নৃপ অনুপ, বাংলা কবিতা | ০ টি মন্তব্য

সাদা কালো

নৃপ অনুপ

ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট স্বপ্নে হিরো হয়ে যায় বনমুর্গি-
রাজহাঁস তার ডিম লুকোবে কার ঘরে?
অথচ সিরিয়াস মুখগুলো রাতের আকাশে বিপন্ন ভীষণ
কমলাপুর- তুমি হাওড়ার মতো বিখ্যাত নও কেন?
এই মূহুর্তেই ইস্টিশন রওয়ানা দেবে ট্রেনের উদ্দেশ্যে
অথচ কুয়াশা আটকে রেখেছে বহুদূর গন্তব্যের পথ।

একা এক রাতে
ইস্টিশন মাষ্টার প্রজাপতি গেরস্থের মাঝে বিপন্ন বেলুন হাতে
দ্যাখে এলিয়েন গাছটির নিচে বসা একক শালিক, কেড়ে নেয়
দৃষ্টি সবার; তবু সাধু রক্তচোখা চোখ নিয়ে কথা বলে- উড়ায় পৃথিবী
আপন-আলোকসহ। জয় বাবা ভোলানাথ … বুম তারা … ইনজয় …
ইজিচেয়ারে বসার স্বাদ, কাঁধের বেঞ্চি থেকে আলাদা হয়
ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট স্বপ্নে মাঝে-মাঝে, মাছ, মাছ-পাখি হয়।

ছেলেটির ঘুড়ি উড়ে গেছে আকাশে, মাঠ সূর্য গিলছে গোগ্রাসে
শুধু গোধূলীর ঘাস একা পড়ে থাকে বলে-
তাকে মহাশূন্য আমন্ত্রন জানায়।

কয়েক মাইল চিন্তা করে দেখা যায়, কয়েকশতো মাইল পিছে পড়ে আছি।

রাষ্ট্রচিন্তা

মাটির গন্ধের কাছে জানি পরাভূত হয় ভাতের শ্রমিক
হাভাতের দেশে তাই পিপীলিকা হ’য়ে গ্যাছে ত্রাণ কর্তা।

বৃক্ষ

এক.
একটা গোপন সত্য লুকোবার ভয়ে
আমি কতোবার মিথ্যে বৃক্ষটির নিচে আশ্রয় খুঁজেছি
দেখেছি শিকড়গুলো কিভাবে অন্ধকারে ঢাকা থাকে।
একটা প্রকাশ্য মিথ্যা জানাবার ভয়ে
আমি কতোবার সত্য বৃক্ষটির নিচে আশ্রয় খুঁজেছি
ঘাস-মাটি-ছায়া ব্যতিরিকে অন্য কিছুই পাইনি সেখানে।
কোন বৃক্ষের নিচে না গিয়ে
আমি বহুদিন; বহুযুগ, বহুকাল- ধরে শুনেছি
মানুষ মূলতঃ বৃক্ষ
বৃক্ষ মূলতঃ মানুষ
মানুষ-বৃক্ষ; পৃথক-পৃথক অন্ধকারের শব্দ; হৃদস্পন্দনও বটে।
আজ পৃথিবীর সব বৃক্ষের নিচে
আমি শুধু দেখি-
কুয়াশায় ভিজে গ্যাছে, বোধের স্তর।
বয়স্ক মানুষ বেঁচে থাকে বন্ধনের দায়ে
ঠিক একটি গাছের মতোন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
দুই.
বহু অরণ্যপথ অনুসন্ধান শেষে দেখি
হরিতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে-
বহুদিন জলহীন বৃক্ষ একা কথা বলে যায়
মরুভূমির তটে, মরু উদ্যানের প্রান্তে।
আজ ছায়াহীন বৃক্ষে রোজপ্রাতে মেঘ করে,
আকাশের নীল চোখে জল এসে জমে থাকে
তাকে কাঁদতে বারণ করে দৃষ্টিহীন পাখি
ঘাসেরা কাঁদে; সবুজের পরে জমে ভোরের শিশির।
আজো,
অর্থাৎ এই যে বসে আছি আজন্ম নীলের দিকে চেয়ে-
প্রভু, বৃষ্টি নামে না এই রৌদ্রদগ্ধ বালুচরে।
আমার বৃক্ষটিতে জল নেই।
আজ তবে আমি কোন ঘাটে গিয়ে কোন সে্রাতকে থামাই।
ঘাসগুলো মৃতপ্রায়;
তাই আমি নিত্য ক’রে গিয়ে ওদের
নদীর গল্প শোনাই।রুষের মমি।

৫ বর্ষ. ৭ সংখ্যা. ফাল্গুন ১৪১০. ফেব্রুয়ারি ২০০৪

০ টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।