ওরা আমাকে ঘিরিয়া ঘিরিয়া নাচে আর গুলি করে

লেখকঃ আহমেদ নকীব
প্রকাশকঃ উড়কি
প্রচ্ছদ: আহমেদ নকীব
দামঃ ২২৫ টাকা

গ্রন্থ আলোচনা কিংবা একজন কবির প্রত্যহিক ক্ষরণ

‘ওরা আমাকে ঘিরিয়া ঘিরিয়া নাচে আর গুলি করে’

বইটি প্রকাশ কাল ২০০২’ ফেব্রুয়ারি হলেও আমার কাছে নতুন। আহমেদ নকীব -এর খুব বেশী লেখা ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়নি অথবা বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ের অন্য দশজন লেখকের মতো তিনি দিনরাত পিঁপড়ার মতো ডিম্ব প্রসব করা সাহিত্য রচনায় অভ্যস্ত নন। বইটির নাম নির্ধারনে কবি আত্ম উৎপীড়ন জাত যন্ত্রণার ক্ষতগুলোকে প্রাধান্য দিলেও তথাকথিত শুদ্ধাচারিতাকে প্রশ্রয় দেননি যা বর্তমান সময়ের বহু লেখককে সোজা বাংলায় ছেচড়ামির অংশ করে তুলে। কথাগুলো যদি কারো গায়ে জ্বালা ধরায় আমি বলব ‘ওরা জ্বলতে থাকুক’। এ জ্বালাপোড়া যদি তাদের ছাইভস্ম করতে পারে তাহলে
সভ্যসমাজের আবর্জনার স্তুপ তেকে কিছু দূর্গন্ধ অন্তত দূর হবে।

আহমেদ নকীব কবিতা লেখেন নি। গদ্য কি লিখেছেন তিনি? এমনটাও মনে হয় না। ষোলটা বিক্ষিপ্ত সংলাপের একটা ক্ষুদ্র গ্রন্থ- ‘ওরা আমাকে ঘিরিয়া ঘিরিয়া নাচে আর গুলি করে।’

আবর্জনা প্রজন্মের সাত ঘাট তো হিসেব-নিকেশের দেনদরবারে ঠাসা, হিতাহীত জ্ঞানশূন্য। কবিতা লিখবে কেডা? আহমেদ নকীব যা লিখেছেন তা ডাস্টবিনের অ্যাবরশন মার্কা নাগরীক সভ্যতার দূর্গন্ধময় পচাঁ মানব সন্তানের কিসসা কাহিনী যেখানে বিসর্জন হল-

রাত্রিতে এঘর ওঘর পায়চারি করতে করতে জানালার বাইরে
আমাদের তারকাটা দেয়া পুরাতন দেয়ালের উপর দেখি কী
যে একটা ব্যাঙের মত আকার; … …
[প্রকৃত ব্যাঙ ও তার জড়জোড়া]

ছন্ন ছাড়া জীবনের গান গল্প নিয়ে গড়ে ওঠা নকীবের কবিতাগুলো শিশুর কৌতহলের মতই ঢিল মারা জলতরঙ্গ। মানুষের জীবন নিয়ে ডাংগুলি খেলে যারা তাদের কাছে জীবনের মূল্য সমাজের দামে বিকোয় কিনা তা কবি জানেন না। শুধু জানেন-

তুই ব্যাটা হাদা-গ্যাদা, সর্বদাই তুলি দুই পা
একসাথে বাড়াতে কস আর পড়িস উল্টিয়ে ঘরের
ভিতরে। তুই পারবিনেরে যাইতে রাস্তার ধ্যানে,
[চরকির সূতা]

পয়ত্রিশ পৃষ্ঠার একটি ক্ষুদ্র গ্রন্থ হলেও এতে ধারণকৃত প্রতিটি কবিতা জীবনের ক্ষতবিক্ষত সময়ের প্রতিচ্ছবি। কোনরূপ তাত্তি্বক দর্শনের বাগাড়ম্বরতা নেই অথচ এমন একটা কিছু আছে প্রতিটি কবিতার শরীরে যার আকর্ষণ পাঠককে বার বার ঘুরে দাঁড়াতে সাহার্য্য করে। 

‘ওরা আমাকে ঘিরিয়া ঘিরিয়া নাচে আর গুলি করে’ আহমেদ নকীবের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে বেরিয়েছিল তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘শিশু ও হারানো বিড়ালের কথা’ আর উনিশশো নিরানব্বই সালে ‘মহাপুরুষের জোব্বা’

রতন ভৌামক প্রণয়

৫ বর্ষ. ৭ সংখ্যা. ফাল্গুন ১৪১০. ফেব্রুয়ারি ২০০৪

০ টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।